আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের টিলা মোড় থানা এলাকার ভারত সিটি সোসাইটিতে ঘটেছে এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা।
সোসাইটির বি-১ টাওয়ারের নবম তলার ফ্ল্যাট থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে তিন নাবালিকা বোন। মৃতদের নাম নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) এবং পাখি (১২)। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে এই তিন বোন কোরিয়ান একটি ‘টাস্ক-বেসড’ বা লক্ষ্য-নির্ধারিত গেমিং অ্যাপের নেশায় মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আসক্তি বা গেমের কোনো চ্যালেঞ্জ পূরণ করতেই তারা এই চরম পথ বেছে নিয়েছে।
শালিমার গার্ডেন এলাকার এসিপি অতুল কুমার সিং জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে রাত আনুমানিক ২টোর দিকে। ওই ফ্ল্যাটের যে ঘরটিতে ছোট একটি মন্দির ছিল, সেই ঘরের জানালাটি খোলা পাওয়া যায়।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, তিন বোন একটি চেয়ারে চড়ে একে একে জানালা দিয়ে নিচে ঝাঁপ দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিছু হাতে লেখা চিরকুট বা কাগজ উদ্ধার করেছে, যা বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই কাগজগুলোতে গেম সংক্রান্ত কোনো নির্দেশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে
তদন্তে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে ওই তিন বোনের কেউই আর স্কুলে যাচ্ছিল না। ১৬ বছর বয়সী বড় বোন নিশিকা মাত্র চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল এবং সামাজিক মেলামেশা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে তারা ইন্টারনেটের অন্ধকার জগতে আরও বেশি নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গভীর রাতে এই ঘটনার পর পুরো আবাসন জুড়ে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন বোনকে উদ্ধার করে লোনির জয়েন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে দেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গেমের নেশা কীভাবে শিশুদের মানসিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে, এই ঘটনাটি পুনরায় সেই ভয়াবহতাকে সামনে নিয়ে এল।
সূত্র: দ্য টাইমস্ অব ইন্ডিয়া।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta