প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৮, ২০২৬, ১:৫০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৮, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ক্ষতির মুখে গণঘের মালিক
আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে একাধিকবার গ্ৰাম্য সালিশের মাধ্যমে গন ঘের থেকে জমি বের করে নেওয়ার পরেও বাঁধ না দেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে গণঘের মালিক ইউসুফ আলী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে নাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায়।
সরেজমিন ঘুরে ও গণঘের মালিক শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া গ্রামের মাওঃ সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ ইউসুফ আলী জানান, লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় পৈত্রিক ও ডিডকৃত ২৩৩ বিঘা জমিতে ২০২১ সাল থেকে মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছে। ২০২৫ বছরে কিছু জমির ডিটের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং কিছু জমি মালিক তাদের জমি বের করে নেওয়ার পর চলতি ২০২৬ সালে গন ঘের মালিকের পৈত্রিক ও ডিডকৃত মোট ১৮৯ বিঘা জমি থাকছে ঘের পরিচালনর জন্য। কিন্তু তার মধ্যে ১৩৮ বিঘা জমি দখল বুঝে পেলেও বাকি জমি তিনি দখল বুঝে পাননি।
ডিডদ্বাতা আসাদুজ্জামান (সাদ্দাম) মল্লিক, আলতাফ হোসেন মল্লিক ও সালিকুর রহমান মল্লিক তাদের ৮.৬৪ একর জমি গণঘের থেকে ফেরত নিয়ে বেধে পৃথক করে দখল নিয়েছে এবং মৎস্য ঘের পরিচালনা করছে এবং ইয়াউর রহমান ও আসাদুজ্জামান (উকিল) মল্লিক তাদের ৭ একর জমি পৃথক করে নেবে বলে মাফজোক করে সীমানা ঠিক করলেও এখনো বেধে নেয়নি।
এ বিষয়ে আশাশুনি থানায় অভিযোগ করার পর বসাবসিতে আপোষ মিমাংসা মতে চলতি বছরের গত ৯ এপ্রিল স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নোতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে মাপজোপ করিয়ে সীমানা নির্দ্ধারণ করেন। এরপর আসাদুজ্জামান (সাদ্দাম) মল্লিক, আলতাফ হোসেন মল্লিক ও সালিকুর রহমান মল্লিক বাধ দিয়ে দখল নিলেও ইয়াউর রহমান ও আসাদুজ্জামান (উকিল) মল্লিক বেধে না নেওয়ায় গণঘের মালিকের ২১ বিঘা জমিতে মাছ চাষ ব্যাহত হচ্ছে।
থানায় বসাবসির মিমাংসার সূত্র ধরে থানা ২ দিনের মধ্যে জমি বেধে নিতে বলেন এবং সালিশে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও বারবার বলা সত্ত্বেও তারা জমি বেধে নিচ্ছেনা। বরং তারা আওয়ামী দোসর আবু বক্কর ছিদ্দিক গাজী গ্রাম্য রাজনীতির কারনে ষড়যন্ত্র করে তাদের (ইয়াুর, উকিলসহ অন্যদের) দ্বারা গণঘের মালিকের ২১ বিঘা জমি জবর দখল করবে বলে বিভিন্ন ভাবে হুমকী ধামকী ও ষড়যন্ত্র করে আসছে।
গণঘের মালিক বলেন, উল্লেখিত এড. আসাদুজ্জামান ইতিপূর্বে তার কাছে কিছু টাকা দাবী করেছিল। টাকা দিলে গণঘের থেকে জমি ভাগাভাগি হবেনা বলে আশ্বস্থ করেছিল। কিন্তু টাকা দেইনি বিধায় সে তাদের সাথে হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলেছে। এহেন ষড়যন্ত্রে আমার পৈত্রিক ও ডিটকৃত জমির ঘেরে মৎস্য চাষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমি ও আমার পরিবার আর্থিক ক্ষতিগ্ৰস্থের পাশাপাশি হয়রানীর শিকার হচ্ছি।
গণঘের মালিক আরও বলেন, তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকুরী রত। তার মেজ ভাই শহীদ রফিকুল ইসলাম কুষ্টিয়া ইউনিভার্সিটিতে ২০০১ সালে ছাত্র শিবিরের ১১৪ তম শহীদ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জমি মালিকরা বলেন, ঘেরে অনেক পানি তাই বাঁধ দেওয়া বেশ ব্যায় বহুল হবে।
এব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী গণঘের মালিক।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta