আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: বিমাতা ভাইয়ের কাগজপত্র চুরি করে নিজের নাম ব্যবহারে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া আনছারুজ্জামানকে বাতিল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে আশাশুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপজেলার নাংলা গ্রামের মৃত কারাচাদ মোল্যার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা জামালউদ্দিন মোল্লা জানান, আমার বিমাতা ভাই আনছারুজামান বাড়ীতে থাকাকালীন সময়ে আমার মুক্তিযোদ্ধা সকল কাগজপত্র চুরি করে নেয়। ওই সময় আমি খুলনায় থাকি, তার কাছে মুক্তিযোদ্ধা কাগজপাতি চাইলে আজ দেব কাল দেব বলে ঘুরাতে থাকে। একসময় ঝগড়া বিবাদ হলে বেশী বাড়াবাড়ি করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তখন উনি আওয়ামীলীগের বড় নেতার ভয়ে আমি বাড়ীতে ফিরতাম না।
২০০০ সালে আমি একটু সুস্থ্ হয়ে ১৫/৫/২২ তাং জামুকায় অভিযোগ করি। অভিযোগ আমলে নিয়ে ২১/১২/২২ তারিখে আমাকে স্বাক্ষী প্রমান নিয়ে হাজির হতে বলেন। আমি স্বাক্ষীদের নিয়ে ঢাকায় জামুকা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে হাজির হই। তখন বিবাদী সময়ের আবেদন করেন এবং বার বার সময় নিতে থাকেন। তৎকালীন মন্ত্রী আশাশুনি ইউএনও’র কাছে তদন্ত পাঠালে, ইউএনও আমাকে স্বাক্ষী প্রমান ও কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে বলেন।
আমি স্বাক্ষীগন ও মুক্তিযোদ্ধা মোক্তার হোসেন, মাহাবুবুর রহমান, বককার গাজী, আনিছুর রহমান, মোসলেম গাজী, লুৎফর রহমান, কামরুল ইসলাম, পরিমল চন্দ্র কার্তিক, ইসমাইল মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, রুহুল কুদ্দুসকে নিয়ে সঠিক সময়ে হাজির হলে এসিল্যান্ড মুক্তিযোদ্ধাদের ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষী নেন এবং আনছারুজজামান ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে ঘোষনা দেন। বিবাদী এলাকার কোন গন্যমান্য ব্যক্তিকে হাজির করতে পারেন নাই।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যশোর সেনানিবাসে লোক নেয়। এসময় আনছারুজজামান, মোক্তার হোসেন, আঃ মালেক যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে দেশের অবস্থা খারাপ হলে আনছারুজ্জামান যশোর হতে পালিয়ে খুলনায় চলে আসে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরে গ্রামের বাড়ীতে চলে আসে। জামুকায় গত ২৯/৭/২৫ তাং উভয় পক্ষের শুনানি হয়। সেখানেও আনছারুজজমান আমার মুক্তিযোদ্ধার সকল কাগজপত্র দেখিয়ে নিজেই মুক্তিযোদ্ধা সাজে ও সরকার হতে সকল প্রকার ভাতা নিচ্ছে। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আনছারুজ্জামান আমার কাগজপত্র ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র হাসিল করেছে। ইউএনও ও এসিল্যান্ডের তদন্তে ও রিপোর্টে যা প্রমানিত হয়েছে।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আনছারুজ্জামানের কাগজপত্র বাতিল এবং আমাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভুক্ত করতে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন সে দাবী জানাচ্ছি।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta