আন্তর্জাতিক রিপোর্ট: সম্প্রতি ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েল হামলা করলেও দেশটির ৪৪০ কেজির বেশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো ধ্বংস হয়নি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিমাণ ইউরেনিয়ামকে অস্ত্রের পর্যায়ে উন্নীত করলে তা দিয়ে প্রায় ছয়টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। ইসরায়েলি গণমাধ্যম 'দ্য জেরুজালেম পোস্ট' জানিয়েছে, মোসাদের হাতে ইরানে এই ইউরেনিয়ামের সঠিক অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। তাই তেহরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের পথে অগ্রসর হতে চায়, তবে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হবে মোসাদ। পশ্চিমা বিশ্বও ইরানের প্রতি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কে ইউরেনিয়াম মজুদ পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
মোসাদের নারী এজেন্টদের দুর্ধর্ষ অভিযান: গত জুন মাসে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনা, শীর্ষ সামরিক ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে চালানো এক বিশেষ অভিযানে অংশ নেন ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের একদল নারী সদস্য। তারা ইরানের ভেতরে গিয়ে সরাসরি এই অভিযান পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছে 'দ্য জেরুজালেম পোস্ট'। গোয়েন্দা সংস্থাটির পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া জানিয়েছেন, ওই নারী এজেন্টদের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নির্দিষ্ট কার্যক্রম গোপন রাখা হলেও ধারণা করা হয় যে, তারা গুপ্তচর সংগ্রহ, তথ্য সরবরাহ এবং লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
এর আগে, ২০২৪ সালে 'জি' নামে পরিচিত এক নারী মোসাদ এজেন্ট স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় মশাল প্রজ্জ্বলন করে সম্মানিত হয়েছিলেন। মাইকেল বার-জোহার এবং নিসিম মিশালের ২০২১ সালের বই 'দ্য মোসাদ অ্যামাজনস'-এ বর্ণনা করা হয়েছে যে, মোসাদের নারী এজেন্টরা শত্রুপক্ষের পুরুষ কর্মকর্তাদের প্রলুব্ধ করেন। পাশাপাশি তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নজরদারি চালান এবং আক্রমণাত্মক অভিযানও পরিচালনা করেন।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আইএইএ-র ভূমিকা: জুনের অভিযানের শুরুতে মোসাদের আঘাত এতটাই কার্যকর ছিল যে ইরান অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ১২ দিনের ওই সংঘাতে নাতানস, ফোরদো ও ইসফাহান- এই তিনটি পরমাণু স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। এছাড়া ইসরায়েলি হামলায় অনেক পরমাণু সাইট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তারা পুরোপুরি সফল হতে পারেনি।
গত পরশু ইরান আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি-র বিরুদ্ধে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষুন্ন করার অভিযোগ করে। ইরান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রোসি সংস্থাটিকে নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাজনৈতিক সহায়তা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta