কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিকের বাড়িতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিনি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের চরদাহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সাংবাদিক ফজলুল হকের বসতবাড়ির চারপাশে পানি জমে রয়েছে। বসতঘর ও রান্নাঘরের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পানির চাপে বাড়ির কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে স্বাভাবিক বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে বাড়ির পাশ দিয়ে একটি স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ ছিল, যার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সহজেই বের হয়ে যেত। কিন্তু সম্প্রতি সেই পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আবু আহমেদ (গাঙ্গুলী) ও আবু মুসা এবং তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে পানি চলাচলের পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক ফজলুল হক জানান, তিনি সুষ্ঠুভাবে দীর্ঘ বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন এবং আগে কখনো এমন সমস্যার সম্মুখীন হননি। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ছে, ফলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দা সাবেক সেনা সদস্য রফিকুল ইসলাম, ফাতেমা খাতুন ও সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অনেকে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ায় শুধু একটি বাড়ি নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবার জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তাদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ অবস্থায় দ্রুত সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী। এলাকাবাসীরও প্রত্যাশা, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত এ ভোগান্তির অবসান হবে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাস নিশ্চিত হবে।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta