এস এম আশরাফুল ইসলাম: সাতক্ষীরায় তীব্র তাপ প্রবাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। দুপুরের তীব্র রোদে গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাড়ির পাশের ছায়াযুক্ত কোন গাছ তলায়। প্রচ- গরমে ফ্যান-বিদ্যুৎহীন অসহনীয় হয়ে উঠেছে জনজীবন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের একটি বাঁশ বাগানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু কওে বয়স্করাও পাটি বা চাটাই বিছিয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।
বকচরা গ্রামের আলমগীর লস্কর বলেন, দিনে ও রাতে মিলেও ১৪ ঘন্টা কারেন্ট থাকেনা। ফলে ইটের দালান বা টিনের ঘরের ভ্যাপসা গরমে থাকাটাই অসহনীয় ব্যাপার, তার চেয়ে দুপুরে কারেন্ট গেলে বাঁশ বাগানের ভেতরের পরিবেশ অনেকটাই সহনীয় হয়ে ওঠে। বাঁশ ঝাড়ের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়া একটু তো স্বস্তি দিচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদও উপজেলার বাসিন্দা মুকুল বলেন, “ঘরের ভেতর গরমে থাকা যায়না, লোডশেডিং তো আছেই। তাই বিকেলে বাঁশ বাগানে চলে আসি। এখানে বসলে একটু ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায় কিন্তু বাড়ি ঘরে মহিলাদের এই অসহনীয় গরম সহ্য করতে হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, ঘন সবুজ উদ্ভিদ এলাকা ভেদে আশপাশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম অনুভব করাতে পারে, যা তাপদাহের সময় গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি দেয়।
চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দিনের তীব্র তাপদাহ এবং রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে খোলা ও গাছের ছায়াযুক্ত জায়গা বেছে নিচ্ছেন। দেশের চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমাধান চান দেশবাসী।
উল্লেখ্য যে, এই প্রতিবেদন তৈরি করতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দুপুর ৩টা ৩৬ মিনিটে সংবাদটি ইমেইলে পাঠানোর সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘ এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে বিদ্যুৎ ফিরে এলে তখন সংবাদটি পাঠানো হয়। লোড শেডিংয়ের এই চক্র শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সংবাদকর্মীদের কাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta