দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ এনে মব সৃস্টি করে গণপিটুনিতে ওহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে কথিত তৌহিদী জনতা ।
মঙ্গলবার বিকালে তাকে প্রথম মারপিটের পর দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর দ্বিতীয় দফায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার ছোট শান্তা গ্রামের শামসুর রহমানের ছেলে।
নিহতের ছোট ভাই তৌসিফ রহমান সাগর বলেন, তার ভাই রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম এ পাশ করার পাশপাশি কামিল পাশ করছেন। এরপর থেকে তিনি রাজধানীতে বেসরকারী কোম্পানিতে কাজ করতেন । করোনাকালীন সময়ে তার চাকুরি চলে গেলে তিনি মসজিদে ইমামতি করতেন । সম্প্রতি রাজধানীতে থেকে বাড়িতে ফেরার পর অজ্ঞান পাটির খপ্পরে পড়ে মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন । সেখান থেকে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তার বড় শামীম মহানবী (সা.)কে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছেন বলে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় । একপর্যায়ে ভাবির সাথে অশান্তি হলে অভিমানে বিষপান করে সে। এরপর তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক সবুরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় ।
খবর পেয়ে স্থানীয় তৌহিদী জনতার সভাপতি ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে তাকে ৪০/৪৫ জন হামলা চালায় । পরে পুলিশের সহয়তায় তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । ওইদিন রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে রাত ৯টার দিকে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালে প্রবেশ করে । ওই সময় ভাই শামীমকে টেনে হিছড়ে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে । একপর্যায়ে ভাইয়ের মাথা ফেটে গেলে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায় । পরে তার অবস্থার অবনতি দেখে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় ।
তিনি আরো বলেন , আমার ভাইয়ের ৮ বছর বয়সী ও ৭ মাসের দুটো ছেলে আছে তারা এতিম হয়ে গেল । এরপর পরে বুধবার সকালে তার বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে । এখন ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যেতে দেবেনা বলে তার হুমকি দিচ্ছে । আমার ভাইকে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে অন্যায় ভাবে মেরে ফেলা হয়েছে । আমি আমার ভাই হত্যায় জড়িদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি ।
অভিযোগ অস্বীকার করে কথিত তৌহিদী জনতার নেতা ফজলুল হক আমিনী বলেন, দুদিন আগে শামীম আল্লাহ’র রাসুল ও মহনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার একটি অডিও ক্লিপ তার প্রতিবেশীরা সংগ্রহ করে তার ইমোতে পাঠায় । এরপর কয়েকজন লোক তার কাছে জানতে পল্লী চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তাকে মারপিট করলে তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । খরব শুনে বিক্ষুদ্ধ জনতা তাকে মারপিট করতে যায় । ওই সময় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করেছেন বলে দাবী করেন।
এদিকে নাম না জানানোর শর্তে দেবহাটা প্রেসক্লাবের দু’জন গণমাধ্যম কর্মী জানান, ফজলুল হক আমিনী এর আগেও ধর্মঅবমানার অভিযোগ এনে এলাকার কয়েকজন মানুষকে জেল খাটিয়েছে । কাল তার নেতৃত্ব কথিত তৌহিদী জনতার ব্যানারে শামীমকে হত্যা করা হয়েছে । অতিদ্রুত তাকে আইনের আওয়তায় আনার জোর দাবী জানিয়েছেন তারা ।
দেবহাটা থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম শাহীন জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে । এ বিষয়ে এখনও পর্যান্ত কেউ কোন থানায় অভিযোগ করেনি । অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta