আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সময় সহযোগিতা না করা ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল সামনে এসেছে। এতে স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমেইলটিতে এমন কিছু নীতিগত বিকল্প তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের ‘শাস্তি’ দিতে পারে। বিশেষ করে, যেসব দেশ ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার, আকাশপথে চলাচল বা অন্যান্য সহায়তা দিতে অনীহা বা অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, ন্যাটোর ক্ষেত্রে এই ধরনের অ্যাক্সেস, বেস ও ওভারফ্লাইট সুবিধা (এবিও)কে ‘ন্যূনতম শর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ওই ইমেইলে। পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ে এসব বিকল্প ঘুরপাক খাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ইমেইলে ‘কঠিন’ হিসেবে চিহ্নিত কিছু দেশকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ বা মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো প্রস্তাব সেখানে নেই। একইভাবে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার কথাও বলা হয়নি।
ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর সম্ভাবনা এই নোটে অন্তর্ভুক্ত ছিল কিনা—এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান ওই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে পেন্টাগনের প্রেস সচিব কিংসলে উইলসন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো মিত্রদের জন্য অনেক কিছু করার পরও তারা আমাদের পাশে ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প দেওয়ার জন্য প্রতিরক্ষা বিভাগ কাজ করছে, যাতে মিত্ররা শুধু কাগুজে বাঘ না হয়ে বাস্তবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে।’
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta