বাবা! তোমার তুলনা শুধুই তুমি
বাবা! তুমিও বাবা, আমিও বাবা। তবে আমি কেমন বাবা? সেটা আমি এখন অনুভব করছি। বাবা হিসেবে তোমার কোন তুলনা নেই। তোমার কাছে আমি কিছুই নই। আমার বোধদয়ের এই মাত্রটাই আসল। আমি তোমার সন্তান ও নিজের সন্তানের বাবা হিসেবে এই পরিবার, সমাজ ও পৃথিবীটাকে বোঝার চেষ্টা করি।
তোমাকে অনুভব করতে, তোমাকে স্মরণ করতে মাঝে মধ্যেই ভুলে যাই। মাঝে মাঝে তোমার কথা খুব মনে পড়ে। ক্ষণিকের জন্য হলেও একটু লেখার মাধ্যমে তোমার জন্য বিশেষ কিছু সময় ব্যয় করতে পেরে ভালোই লাগছে। তুমি তো অনন্তকালের জন্য আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে পাড়ি জমিয়েছো। হঠাৎ তোমার কথা মনে হল, তাই ভাবছি। অনেকদিন হলো তোমার স্নেহের ছোঁয়া, তোমার ভালবাসা পায় না। দিবা-রাত্রি তোমার স্নেহমাখা কন্ঠের ডাকাডাকি নেই। সন্তানের মঙ্গলের জন্য বাবার আদর মাখা ধমকটিও আজ অধরা। তোমাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতে পারি না। তোমাকে বিরক্ত করা হয় না। তোমার কাছে বসে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি ও দেশপ্রেমের গল্প শোনাও হয় না। কিভাবে একজন আদর্শবান ব্যক্তি হয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তোমার শরীরের উঞ্চতাও অনুভব করতে পারি না। ভাবতেই পারি না। কিসের এতো দূরত্ব? বুঝিনা! জীবন ও জীবিকার তাড়নায় পারিবারিক বন্ধন আজ সময়ের কাঁটাতারে বাধা। ডিজিটাল বন্ধনে সেই রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলেও আসলে তা শুধু কল্পনার জগতেই বসবাস।
অদ্যাবধিও তোমার আদর, তোমার ভালোবাসা, তোমার আদর্শ, তোমার চিন্তা, তোমার হাসি, তোমার কান্না, তোমার আনন্দ, তোমার কষ্ট দেখতে পাই। তোমার পরশেই আজ আমার এই অস্তস্তি। তোমার পরিচয়েই আজ আমার পরিচয়। তোমার পরার্মশেই আজ আমার পথচলা। তোমার সাহসেই আমার সাহস, তোমার সততাই আমার সততা, তোমার আদর্শই আমার আদর্শ, তোমার প্রেরণাই আমার ভবিষ্যত। আমার জীবনের সকল পরীক্ষাতেই আমাকে সাহস জুগিয়েছ। সকল বিপদে-আপদে তোমার ছায়া সবসময়ই আমি দেখতে পাই। আমার সফলতায় তোমার চোখে আনন্দাশ্রু দেখেছি।
বাবা, আমার এই ছোট্ট জীবনে তোমাকে অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে দেখেছি। তোমার সন্তান হওয়ায় এই সৌভাগ্যটা আমার হয়েছে। কিন্তু তোমার সেই চ্যালেঞ্জে আমি ব্যর্থ হয়েছি। এর দায় আমারই। এই চ্যালেঞ্জ দেখার মাধ্যমে নিজের সামনের পথ চলাও আজ সহজ হয়েছে। তোমার স্কুল, কলেজ, পেশাগত, সাংসারিক ও রাজনৈতিক জীবনের গল্পগুলো আজো আমাকে সাহস জোগায়। তুমি তোমার জীবনের কত ঝড়, কত ঝঞ্ঝাটের মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমেই তোমার আদর্শ নিয়ে এগিয়েছ। বাবা নামক প্রতিনিয়ত ধৈর্য্য তোমার মাঝে দেখেছি। আমি দেখেছি তোমার জীবনের সব ধৈয্য।৷ আমি দেখেছি নির্লভী এক আদর্শবান বাবাকে। একজন বাবা কে কোনদিন তার সততাকে বিষর্জন না দিয়ে কিভাবে জীবন যুদ্ধ করে মাথা উচুঁ করে বেঁচে থাকতে হয়। তুমিই তো শিখিয়েছ। সেটা এখন যেন একটি রূপকথার গল্প মাত্র। তুমি যেভাবে রাজনীতির মাঠে ও অসহায় মানুষের কল্যানে ছুটে চলতে তা এখনও আমার মনে পড়ে। এ যেন আমার দেখা পৃথিবীর সবচেেয় বড় বটগাছ, সাহসের বাতিঘর। সততা ও আদর্শের পাহাড়।
বাবা! তোমার তুলনা তুমিই। বাবা, দূর হতে তোমার জন্য শুধু আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে দু’চোখের অশ্রু সংবরণ করে দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই আমার কাছে নেই। শুধু আছে তোমার আদর্শ, তোমার স্মৃতি। আমি জানি বাবা’রা ক্ষমা করতে পারে। তুমি তোমার এ ছেলেকে ক্ষমা করে দিও। তুমিও আমার বাবা, আমিও তোমার বাবা! এটাই আমার শান্তি, এটাই আমার প্রাপ্তি। যতদিন আল্লাহ্ তোমাকে এই পৃথিবীতে হায়াত রেখেছিলেন, ততদনি আমাদের মাঝে হাসি ও আনন্দেই কেটেছে। আজ তুমি আমাদের মাঝে নেই। তাই বাবার আদর-ভালবাসা থেকে আমরা সকলে বঞ্চিত।
যার বাবা নেই সেই বোঝে বাবা হারানোর যন্ত্রণা। বাবা তুমি ওপারে ভাল থেক। আমি যেন তোমার মান রাখতে পারি। এটাই হোক আমার জীবনের অঙ্গীকার। আমিন!!
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta