অনলাইন ডেস্ক: চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ক্রমাগতভাবে বাড়ছে দাম। জ্বালানির এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশেও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পাওয়া যাচ্ছে না জ্বালানি তেল। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির তেলের দাম বাড়বে বলে গুঞ্জন উঠে। তবে, আপাতত দাম বাড়াচ্ছে না সরকার। এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
ওই বার্তায় বলা হয়, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’ অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারণ করে তা বহাল রাখা হয়েছে। নতুন এই মূল্য ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে, আজ সকালে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও জানান, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যে ডিজেল এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন সাত হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন।
এপ্রিল মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল দেশে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, “জ্বালানি সংকটের কোনও আশঙ্কা নেই। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত হয়।”
এদিকে, জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta