স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি বছরের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ক্রিকেট অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা উত্তেজনা ও নাটকীয়তা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের পথে হাঁটছে।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)–এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি।
এই পরিস্থিতির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেঠি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অবস্থান আসলে সময়ের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, বিসিসিআইয়ের বিষয়টি এখন গুরুত্ব সহকারে ভাবা উচিত।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিসিসিআইয়ের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে তারা আইসিসির অন্যান্য সদস্যদের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে—এমন ধারণা থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
শেঠি স্পষ্ট করেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত, তিনি পিসিবির মুখপাত্র নন। তিনি জানান, পিসিবি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ম্যাচের এখনো ১০–১৫ দিন বাকি থাকায় আলোচনার সুযোগ রয়েছে এবং তিনি ইতিবাচক সমাধানের আশা করছেন।
তার অভিযোগ, সমস্যার মূল বিসিসিআইয়ের মনোভাব। প্রতিটি ধাপে তারা অন্য বোর্ডগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। আগে পাকিস্তান একা থাকত এবং তখন অধিকাংশ বোর্ড ভারতের পক্ষ নিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেঠি আরও বলেন, তথাকথিত ‘বিগ থ্রি’—ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড—আইসিসির আয়ের বড় অংশ পায়, যা পিসিবির দীর্ঘদিনের আপত্তির কারণ। তার দাবি, তৎকালীন বিসিসিআই সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের সময় ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজের আশ্বাস দিয়ে পিসিবিকে ওই রাজস্ব কাঠামো মেনে নিতে বলা হয়েছিল।
তিনি জানান, নয়টি বোর্ড সেই চুক্তিতে সই করেছিল। তখন শ্রীনিবাসন তাকে বলেছিলেন, আলাদা থাকলে পাকিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শেঠির ভাষ্য অনুযায়ী, নীতিটি অন্যায্য জেনেও এই আশ্বাসে তারা রাজি হয়েছিলেন যে ভারতের সঙ্গে সিরিজ খেলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।
তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন শেঠি। তার মতে, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও এক বছর পর সিরিজের ঠিক আগে বিসিসিআই কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সরে দাঁড়ায়। তিনি জানান, চুক্তি চূড়ান্ত করতে তিনি মুম্বাই গেলেও বিসিসিআইয়ের কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি, যা তিনি চরম অপমান হিসেবে দেখছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শেঠির ধারণা, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একসঙ্গে অবস্থান নিলে ভারতকেন্দ্রিক আধিপত্যে পরিবর্তন আনা সম্ভব। স্বল্পমেয়াদে ক্ষতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল মিলবে বলে তিনি মনে করেন।
তার ভাষ্য, পাকিস্তানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে এবং এখন বাংলাদেশও অবহেলিত হওয়ায় দুই দেশ একজোট হতে পারে। তিনি বলেন, আর চুপ থাকার সময় নেই। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, আইসিসি নীতিগতভাবে বৈষম্য করছে, কারণ বাস্তবে বিসিসিআইই সংস্থাটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে শেষ পর্যন্ত একটি ন্যায্য ও সংস্কারকৃত আইসিসি গঠিত হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেঠি।
সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta