নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের কুখরালী এলাকায় সোহানা পারভীন (১৯) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, সোহানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে কুখরালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সোহানা পারভীন মোঃ আব্দুল খলিলের মেয়ে।
ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী নিহত সোহানার ৩ বছর বয়সী শিশুসন্তান ফাইয়াজ হোসেন। সে সাংবাদিকদের জানায়, "আমার আব্বু আর দাদি দুইজনে মিলে আম্মুকে মারছে। তারপর আম্মুকে ঘরের ভিতরে ওড়না দিয়ে ওপরের আড়ার সাথে ঝুলাই দিছে।" অবুঝ শিশুর এমন বক্তব্যে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সোহানার স্বামী শেখ সাকিব হোসেন ও শাশুড়ি খালেদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, সাকিবের সাথে পাশের বাড়ির একটি দ্বিতল ভবনের এক তরুণীর সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সাকিব প্রায়ই ওই তরুণীকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যেতেন। এই পরকীয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ ও মারধর করতো।
স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার সকালেও একইভাবে মারধরের একপর্যায়ে সোহানা মারা যান। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে সাকিব ও তার মা মিলে সোহানার লাশ ওড়না দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, "আমরা ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালাচ্ছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী শেখ সাকিব হোসেনকে থানায় আনা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ওসি আরও জানান, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে নিশ্চিত করে এই মুহূর্তে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta