নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি গ্রামে এক গৃহবধূকে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী অর্জুন সরকার তার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী অর্জুন সরকার ভোমরা স্থলবন্দরের কর্মচারী এবং পাশাপাশি নিজস্ব ঘেরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার স্ত্রী লাবনী সরকার (২৬)। তাদের ১১ বছরের একমাত্র সন্তান অর্ক সরকার। লাবনী সরকার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ এলাকার পত্নীতলা গ্রামের বাসিন্দা ঠাকুরপদ সরকারের মেয়ে।
অর্জুন সরকারের অভিযোগ, টিকটকের মাধ্যমে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর সঙ্গে তার স্ত্রী লাবনী সরকারের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে দেবপ্রসাদ সরকার তার স্ত্রীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অর্জুন সরকার জানান, গত (১৭ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার লাবনী তার ১১ বছরের ছেলে অর্ককে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরে শনিবার অর্ককে নবাতকাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন লাবনী। এ সময় ছেলেকে তিনি বলেন, ‘বাবা, তুমি আজ বাড়ি যাও। আমি কয়েকদিন পরে আসব।’
স্ত্রী লাবনী সরকারের স্বামী, ছেলে ও শ্বাশুড়ি। ছবি- দৈনিক অপরাধ বার্তা।
তবে স্বামীর অভিযোগ, বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় লাবনী নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের হার, এক ভরি ওজনের দুটি রুলি, পায়ের নূপুর ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে তার ছেলে অর্কের বক্তব্যের একটি ভিডিও রেকর্ডিং প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অর্জুন সরকার বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার ১১ বছরের ছেলে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেবপ্রসাদ সরকারকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
অর্জুন সরকারের ভাষ্য, ‘আমার ছোট শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে যে কোনো মূল্যে ফিরে পেতে চাই। আমি চাই, আমার সন্তান তার মাকে ফিরে পাক।’
এদিকে অর্ক সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। তার দাবি, মায়ের সঙ্গে মামাবাড়ি যাওয়ার পর তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।
অর্জুন সরকার আরও অভিযোগ করেন, লাবনী তার মা-বাবার পরামর্শে তাকে সর্বস্বান্ত করে সবকিছু নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার স্ত্রীর ছোট বোন সুস্মিতা সরকারের সংসার ভেঙে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অর্জুন সরকার জানান, গত শনিবারের পর লাবনীর সঙ্গে তার দুই-তিনবার ফোনে কথা হয়েছে। তার দাবি, লাবনী তাকে জানিয়েছেন যে তিনি দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করতে চান। স্বামী ও ছেলে তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে তাদের যাওয়ার খবর পেয়ে লাবনী সামনে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে বিয়ে করেছি।’
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta