ফারুক রহমান: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় চলতি মৌসুমে কুল চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। লাভের আশা করছে কৃষক। সুস্বাদু এই কুল বা বরই উপজেলার সবখানেই চাষ করা হয়। হেলাতলা ইউনিয়নের দমদমা, চেড়াঘাট, গণপতিপুর, দামোদরকাটি এলাকায় মাঠজুড়ে কেবল চোখে পড়ে কুলগাছের সবুজ বাগান। এছাড়া সিংগা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক কুল চাষ হয়।
সরজমিনে কলারোয়া উপজেলার গণপতিপুর, দামোদকাটি, চেড়াঘাট গ্রামে বিভিন্ন বাগানে যেয়ে দেখা যায়, এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠে কৃষকদের বাগানগুলোর কুল গাছগুলোতে তারার মতো ফুটে আছে ফুল। কোনো কোনো গাছে ফল ধরেছে।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার উপজেলায় কুল চাষ করা হয়েছে ৪৭৩ হেক্টর জমিতে। যা গত মৌসুমের চেয়ে বেশি।
কথা হয়, গণপতিপুর গ্রামের সফল কুলচাষি মশিয়ার রহমানের সাথে। তিনি জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে কুলের চাষাবাদ করে আসছেন। এবার তিনি ২৩ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন। তাঁর কুলের বাগানে তিনি পাঁচ জাতের কুল চাষ করেছেন। এগুলো হচ্ছে, থাই আপেল, বল সুন্দরী, সাদা টক কুল, খাড়া টক কুল ও টক কমলা কুল। তিনি বলেন, নামে টক হলেও এগুলো টক-মিষ্টি কুল।
মশিয়ার রহমান আরও জানান, এই পাঁচ জাতের কুলের মধ্যে থাই আপেল কুলের চাহিদা বেশি। সফল এই কুলচাষী জানালেন, কুল চাষ করতে হলে নিবিড় পরিচর্যা ও একাগ্রতা প্রয়োজন। এবার কুলের ফলনে তিনি আশাবাদী। প্রতিবারই তিনি কুল চাষ করে লাভবান হন। এবারও লাভবান হওয়ার আশা করছেন।
সোনাবাড়িয়া গ্রামের কুলচাষি আবুল হোসেন বলেন, তিনি এবার চার বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। বাগানের গাছে ফুল ও ফল এসেছে। গত মৌসুমের মতো এবারও লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি।
এছাড়া কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ও কেরালকাতা ইউনিয়ন ছাড়াও সোনাবাড়িয়া ও চন্দনপুর ইউনিয়নেও কুলচাষ বেশ জনপ্রিয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম এনামুল ইসলাম জানান, এবার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে এবার কুল চাষ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কুলচাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কীটনাশক দমনের বিষয়ে করণীয় প্রসঙ্গে তাদের উদ্বুদ্ধ করে থাকে নিয়মিতভাবে।
কৃষিবিদ এনামুল ইসলাম আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, এবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার কুল বিক্রি হতে পারে।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta