নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মৃত কায়েম আলী সরদারের পুত্র আব্দুল গফফার ও মেয়ে শিরিন বেগম ও মঞ্জুয়ারা বেগম।
শুক্রবার (১৯ জুন) সাতক্ষীরা ব্রহ্মরাজপুর বাজারে অবস্থিত বিডিএফ প্রেসক্লাব-এ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মৃত কায়েম আলী সরদার মৃত্যুকালে এসএ খতিয়ান নং-১৩ এবং বিআরএস খতিয়ান নং-১৫৮/১৫৯-এর আওতাভুক্ত মোট ১৮২ শতক জমি রেখে যান। তার ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ে উক্ত সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তিন ভাই—আব্দুস ছাত্তার, গোলাম বারী ও গোলাম সিদ্দিক তাদের প্রাপ্ত অংশ থেকে এসএ খতিয়ান নং-৬৮ এবং বিআরএস খতিয়ান নং-১৫৮/১৫৯ ও ১৫৮/১৬০-এর অন্তর্ভুক্ত মোট ৩৫ শতক জমি রবিউল ইসলামের নিকট বিক্রয় করেন। এর মধ্যে বিআরএস খতিয়ান নং-১৫৮/১৫৯-এর ২২ শতক এবং বিআরএস খতিয়ান নং-১৫৮/১৬০-এর ১৩ শতক জমি রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, বিক্রয়কৃত জমির কোনো আপোষ বণ্টননামা বা সুনির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ না থাকা সত্ত্বেও রবিউল ইসলাম বেআইনিভাবে বিআরএস দাগ নং-৭৮১ ও ৭৮২-এর সম্পূর্ণ জমি নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বিক্রয়কৃত ৩৫ শতক জমির সীমারেখা নির্ধারণ না করে উত্তরাধিকারীদের দখলীয় সম্পত্তির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দাগ নং-৭৮১ ও ৭৮২-এর জমিতে উত্তরাধিকারীরা ও তাদের তিন বোন দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ প্রয়োগ এবং জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর, খুন-জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় পরিবারটি নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা বিআরএস দাগ নং-৭৮১ ও ৭৮২-এর জমি জবরদখলের অপচেষ্টা বন্ধ, বৈধ উত্তরাধিকার ও দখল নিশ্চিতকরণ, পরিবারের নিরাপত্তা প্রদান, হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৃত কায়েম আলী সরদারের উত্তরাধিকারী গোলাম গফফার, শিরিনা বেগম, মঞ্জুজুয়ারা বেগম ও তাহমিনা খাতুনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta