নিজস্ব প্রতিনিধি: সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীর পরিচয়ে মুক্তিপণের দাবিতে দু’দিনে কাঁকড়া ও মাছ শিকারে জড়িত ২২ জেলেকে অপহরণ করেছে। গত রবিবার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে এসব জেলেদেরকে অস্ত্রের মুখে জলদস্যুরা অপহরণ করে।
অপহৃত জেলেরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপহৃত জেলেদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিলেও অপর ১৭ জনকে তারা জিম্মি করে রেখেছে। এঘটনায় শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন তীরবর্তী হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি, মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করেছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন, সিংহড়তলী গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে মোমনি ফকির (৩০), হরিনগর গ্রামের মুর্শিদ আলম (৪০), হরিনগর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে ইসমাইল শেখ (২৮) ও মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল করিম (৪৮), সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের ছাত্তার সানার ছেলে আব্দুস সামাদ(৪০), কুলতলি গ্রামের মনোহর সরকার (৩৪), চুনকুড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে আল মামুন(১৬), রুহুল আমিনের ছেলে হুমায়ুন (২৬), খালেক মোল্যার ছেলে মনিরুল (২৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে রবিউল (৩০), গনেশ মন্ডলের ছেলে সঞ্জয় মন্ডল (৫২), বড় ভেটখালী গ্রামের আলমগীরের ছেলে আল আমিন (৩৭), ফরেজ গাজীর ছেলে শাহাজান (৫০), জুলফিকারের ছেলে আবুল বাসার বাবু (৩৫), কদমতলার ছাকাত গাজীর ছেলে রেজাউল (৩৫), দক্ষিন কদমতলার সাদেক সর্দারের ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫), ধুমঘাট গ্রামের কওছার গাজীর ছেলে আবুল কালাম (৪০)।
এছাড়া, মুক্তিপণের দাবিতে মারপিট করে ছেড়ে দেয়া জেলেরা হলেন, কুলতলি গ্রামের মৃত নিরাপদ সরকারের ছেলে ধ্রুবো সরকার (৩৮), দক্ষিন কদমতলা গ্রামের সুবোল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল(৫৩), হরিনগর গ্রামের বাবুর আলী গাইনের ছেলে সবুর গাইন (৫০), সিংহড়তলীর গোলদার পাড়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) ও আনছার গাজীর ছেলে ইউনুস আলী (২৬)।
অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা এবং ফিরে আসা জেলেদের ভাষ্যমতে, গত চার থেকে পাঁচদিন আগে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে তারা সুন্দরবনে যান। একপর্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন এলাকার বিভিন্ন খালে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের সময় মুক্তিপণের দাবিতে আলিম ওরফে আলিফ বাহিনী এবং নানাভাই বাহিনীর সদস্যরা তাদের অন্তত ২৮ থেকে ৩০ সহযোগীকে অপহরণ করে। তবে তাৎক্ষনিকভাবে উক্ত ২২ জনের নাম পরিচয় নিশ্চিত করেন তারা। এর মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিম্মি জেলেদের কয়েকজন স্বজনরা জানান, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা মুক্তিপণের কোন অংক জানায়নি। হয়তোবা মোবাইলের নেটওয়ার্কের মধ্যে ফিরে তারা মুক্তিপণ দাবি করতে পারে।
এদিকে, ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, একেবারে লোকালয়ের পাশ থেকে জলদস্যুরা জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। হরিনগর বাজার থেকে নৌ-পথে মাত্র ১০/১২ মিনিট দুরত্বে থেকে তাদের কয়েকজনকে তুলে নিয়েছে জলদস্যু নানাভাই ও আলিম বাহিনীর সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষক্রিয়তার সুযোগে জলদস্যুলা একেবারে লোকালয়ের পার্শ্ববর্তী অংশ থেকে জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ।
এ ব্যাপারে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন-সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ মশিউর রহমান জানান, জেলেদের অপহরণের বিষয়ে ইতিমধ্যে তারা কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান জানান, অপহরণের শিকার কোন জেলের পরিবারের সদস্যরা এখনও তাদের কাছে কোন অভিযোগ দেননি। তবে, লোক মুখে বিষয়টি জানার পর ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta