নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার জাতীয় অধ্যাপক ডাক্তার এম আর খান শিশু হাসপাতালে নিয়োগ ঘিরে উঠেছে চরম স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট ছয়জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় গুছিয়ে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বেতন আটকে যাওয়ায় এবং বিধি মোতাবেক পুনরায় নিয়োগের আদেশে পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি হাসপাতালটির ছয়টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদকের শ্যালিকার ছেলেসহ ছয়জনকে কৌশলে ‘নির্বাচিত’ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নাম করে এই প্রার্থীদের কয়েকজনের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে, যার কোনো নথিপত্র হাসপাতালের নথিতে নেই।
নিয়োগপ্রত্যাশী এই তালিকায় রয়েছেন কনসালটেন্ট তনিমা রহমান তমা, সিস্টার পদে স্মৃতি, প্যাথলজিতে রাফিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে শওকত মজুমদার ও শান্তা এবং নাইট গার্ড পদে সজীব।
সূত্র জানায়, গত ১ জানুয়ারি ওই ছয়জন চাকরিতে যোগদান করেন এবং জানুয়ারি মাসের বেতনও গ্রহণ করেন। তবে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের রেজুলেশনে স্বাক্ষরের জন্য যখন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়, তখন শুরু হয় বিপত্তি। জেলা প্রশাসক অনিয়মের আঁচ পেয়ে বেতন দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিধি মোতাবেক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ‘ফেয়ার নিয়োগ’ দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও সেই পুরোনো ছয়জনকেই টিকিয়ে আনার তোড়জোড় চলছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৭ মার্চ) বেলা সাড়ে নয়টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ওই ছয় প্রার্থীকে নিয়ে গোপন বৈঠক করেছেন সাধারণ সম্পাদক ও কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে কোনো মূল্যে পছন্দের প্রার্থীদেরই নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতালের সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে জেলার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ দাবি জানিয়েছেন, জাতীয় অধ্যাপকের স্মৃতিধন্য এই প্রতিষ্ঠানে যেন স্বজনপ্রীতি বন্ধ করে মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রকৃত যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta