নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পৌরসভার ডিসিআরকৃত তিনটি দোকান উচ্ছেদ করাতে লাখ লাখ টাকার মিশনে নেমেছেন শহরের প্রভাবশালী রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি শহরের সুলতানপুর এলাকার ইসলামের ছেলে।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা পৌরসভার অধীনে সুলতানপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা সংস্কার কাজ চলমান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাতক্ষীরা দিবা নৈশ কলেজের সামনে অবস্থিত খাঁ ডাক্তারের ডিসিআর নেওয়া তিনটি দোকান যেকোনো মূল্যে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেন প্রভাবশালী রবিউল ইসলাম গং।
তিনটি দোকান থাকার কারণে রবিউল ও তার তিন ভাইয়ের বিলাসবহুল বাড়ি ও সম্পদের মান নষ্ট হচ্ছে। দোকান তিনটি উচ্ছেদ করতে পারলে বাড়ি ও জমির মূল্য বেড়ে যাবে বহুগুণ। যার ফলে সাতক্ষীরা পৌরসভার কতিপয় কর্মচারী, একজন শিক্ষক ও স্থানীয় কিছু বখাটেদের ভাড়া করে রবিউল গং। যেকোনোভাবে দোকান তিনটি উচ্ছেদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মহলটি। এজন্য লাখ লাখ টাকার মিশনে নেমেছেন রবিউল ও তার ভাইয়েরা।
এ ব্যাপারে খাঁ ডাক্তার পরিবারের সদস্য ডা: সিরাজ বলেন, একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন যাবত আমাদের দোকানের উপর নজর দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এই চক্রটি দোকান উচ্ছেদের নীল নকশা করে। তখন ভারপ্রাপ্ত একজন পৌর মেয়রকে পাঁচ লাখ টাকা দেয় রবিউল। এখন আবার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে চা দোকানদার হায়দার আলী জানান, দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছি। চা বিক্রির মাধ্যমে আমাদের সংসার চলে। এমনকি বাচ্চাদের পড়াশোনাও করে এই চায়ের দোকানের আয় থেকে। পুরো সংসার দোকানের উপর নির্ভর।
প্রভাবশালী রবিউল একটি মহলকে কাজে লাগিয়ে দোকান উচ্ছেদের পায়তারা করছে। এ ঘটনায় অনেকে জড়িত। আমরা জানতে পেরেছি রবিউল গং এই কাজের জন্য কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। অনেক প্রভাবশালীদের কেনাও শেষ করেছে রবিউল গং।
নাগরিক নেতাদের দাবি, দরিদ্র মানুষকে বেকায়দায় ফেলতে একশ্রেণীর শাসক গোষ্ঠী সব সময় তৎপর। আইন আইনের গতিতে চলবে। তবে কাউকে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা কতটা যৌক্তিক সেটাই ভাববার বিষয়। সেটা জোর করেই হোক আর আইন মেনেই হোক।
এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সংস্কার কাজ চলমান। নিয়ম অনুযায়ী কাজ হবে। পৌরসভা কারো দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
এদিকে ভুক্তভোগীরা প্রভাবশালী রবিউলের কালো থাবা থেকে বাঁচতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta