নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চিকিৎসকদের প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের স্বামীর মামলার প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ‘ভুয়া’ জখমি সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট) তৈরি করিয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালটির পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. এবাদুল ইসলাম।
সনদে গরমিলের চাঞ্চল্যকর তথ্য: লিখিত অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সাতক্ষীরা থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার (মামলা নং-০৭) জখমি সনদ নিয়ে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। মামলার দুই জখমি- শিমুল আহম্মেদ ও শামীম সরদার গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে ডা. মো. আবির হোসেন চৌধুরী (কোড- ১৩৮০০৮) স্বাক্ষরিত যে সনদ প্রদান করা হয়, তাতে বাস্তবতার সাথে ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জখমি শিমুল আহম্মেদের হাতে কোনো হাড় ভাঙার ঘটনা না ঘটলেও সনদে (হাতের তালুর তৃতীয় মধ্যমা আঙুলের সাথে সংযুক্ত) এবং চতুর্থ (অনামিকা আঙুলের সাথে সংযুক্ত) মেটাকারপাল হাড় ভেঙে যাওয়া) উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আরেক জখমি শামীম সরদারের সনদে আঘাতের কারণ হিসেবে (রাসায়নিক অস্ত্র, যা মানুষের মৃত্যু বা ক্ষতি করার জন্য ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ) লেখা হয়েছে। অথচ কোনো ফরেনসিক বা ল্যাব টেস্ট ছাড়াই এই মন্তব্য করা হয়েছে। মামলার মূল এজাহারেও কেমিক্যালের কোনো উল্লেখ ছিল না, সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল ‘গরম পানি’র কথা।
নেপথ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স:
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ঘটনার মূল কারিগর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জোৎস্না খাতুন। তিনি ওই মামলার অন্যতম জখমি সেলিম হোসেন বাবুর স্ত্রী। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর মামলাটি ভারী করতে এবং আসামিপক্ষকে বিপদে ফেলতে তিনি ডাক্তারদের প্রভাবিত করে এই মিথ্যা সনদ তৈরি করিয়েছেন। গরম পানিকে ‘রাসায়নিক দ্রব্য’ দেখিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি অভিযোগকারীর।
প্রতিকার চেয়ে আবেদন
মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া এই জখমি সনদের কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবেদনকারী মো. এবাদুল ইসলাম। তিনি অবিলম্বে এই বিতর্কিত সনদ সংশোধন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া না গেলেও বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ রোগীদের প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতালের সনদ যদি এভাবে প্রভাবিত হয়, তবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার নিয়ে হতাশায়।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta