চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মঞ্চস্থ একটি নাটকে রাজাকার চরিত্রে অভিনয় নিয়ে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মাসুদ পারভেজ রাসেলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ মাঠে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও সূত্রে জানা যায়, দিবসটি উপলক্ষে সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কুচকাওয়াজ শেষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্পে রাজাকারের পাঠ’।
নাটকে রাজাকার ও রাজাকারের সহযোগী চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল আলমডাঙ্গা ব্রাইট মডেল স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় উপস্থিত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল ওই চরিত্রে অভিনয় না করার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ব্রাইট মডেল স্কুলের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাদের রাজাকার ও রাজাকারের সহযোগী চরিত্রে অভিনয় করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
পরে নাটকের কাহিনীতে পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। রাজাকার চরিত্রের পরিবর্তে ‘বাবা-ছেলে’ সম্পর্কের একটি রূপ দিয়ে নাটকটি শেষ করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা ব্রাইট মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তাকিম রাজু বলেন, স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানের ঘটনাটি আমার স্কুলের অফিস সহকারী শফিউল আলম লিটন জানিয়েছেন।
অফিস সহকারী এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন কিনা- জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, আমার স্কুলের ৪ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তারা আমাকে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ আমাদের ১২ মিনিটের এই নাটক মঞ্চস্থ করার আগেই সংক্ষিপ্ত করে ৫ মিনিটে নাটক মঞ্চস্থ করতে বলেছেন।
কর্তৃপক্ষ কে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে আপনাকে জানাচ্ছি।
এরপর প্রধান শিক্ষককে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, আমি উপজেলা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্যারেড গ্রাউন্ড সালাম গ্রহণ করে চলে আসি। ডিসপ্লের সময় আমি ছিলাম না। ওই ছেলেকে আমি চিনি না। তার অভিভাবক বা শিক্ষক কারো সঙ্গে আমার কোনো ধরনের কথা হয়নি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য প্রতিপক্ষের কেউ তাকে শিখিয়ে-পড়িয়ে দিয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানটি সুন্দর ভাবে পালন করা হয়েছে। প্যারেডের প্রতিটি প্রতিযোগীকে ৫ মিনিট করে প্রদর্শনীর জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। রাজাকার চরিত্রে অভিনয় তো ২-৩ মিনিটও করা যায়। ৫ মিনিট সময়ে তাদের স্কুল কি প্রদর্শনী করবে এটা আমাদের বিষয় নয়। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিযোগিতা করবে এটা সবার জন্য সমান। কারো জন্য আলাদা করে সময় নির্ধারণ করা হবে না। রাজাকার চরিত্র নিয়ে অভিনয়ে বাধা প্রদানের অভিযোগ বিষয়টি আমার জানা নেই।
সম্পাদক : রেহেনা মেহেদী
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। Dainik Aporadh Barta