
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে আদালতের প্রধান ফটকের সামনে প্রতিপক্ষের হামলায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তির নাম আব্দুল করিম (৪৬)। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার গান্ধুলিয়া গ্রামের আশরাফ হোসেনের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই একদল হামলাকারী লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।তিনি জানান, একই এলাকার মৃত ফেরাজতুল্লাহ গাজীর ছেলে মশিউর রহমান তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেশন মামলা নং-৮৩৬/২৬-এ হাজিরা দিতে তিনি আদালতে আসেন।
তার অভিযোগ, সকাল ১০টার দিকে আদালতের বারান্দায় একদল ব্যক্তি তাকে মারধরের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও কোর্ট স্টাফরা তাকে উদ্ধার করে এজলাসের ভেতরে নিয়ে যান। পরে শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত কোর্ট চত্বরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটাতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
শুনানি শেষে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে আদালত চত্বর ত্যাগ করার সময় জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে পুনরায় হামলার শিকার হন আব্দুল করিম। তার অভিযোগ, কালিগঞ্জ উপজেলার গান্ধুলিয়া গ্রামের মশিউর রহমানের নেতৃত্বে সাতক্ষীরা সদরের খেজুরডাঙ্গা মল্লিকপাড়ার আরিফুল আলম (৪০) হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে মশিউর রহমান লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। এ সময় মারুফ হোসেন, মাহমুদুল হাসান আসিক, মোজাফফর হোসেন, শাহিনুর রহমান, মীর শাহিনুর, মনির হোসেন, সোহরাব হোসেন ও শফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন হামলায় অংশ নেয় এবং তারা নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি আই ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে তিনি দাবি করেন।
পরে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও হামলাকারীরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি সদর থানায় মামলা করতে যাওয়ার সময়ও তাকে পুনরায় বাধার মুখে পড়তে হয়। পরে তিনি গোপনে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় দিনভর আদালতপাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মশিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছেন আহত আব্দুল করিম।