• আজ- সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরায় ইজিবাইকের ধাক্কায় এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ এলজিইডির হিসাব রক্ষক মুস্তাফিজের ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরাল কালিগঞ্জে আদি যমুনায় ৪০ লক্ষ টাকার তীর রক্ষা বাঁধ: মাস না পেরোতেই ধস জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদল সাতক্ষীরা জেলা কমিটি থেকে সিরাজুল ও লাল্টুর পদত্যাগ কালিগঞ্জে মব সৃষ্টির মাধ্যমে অধ্যাপিকার বাড়ি দখলের অভিযোগ কালিগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা আজ থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর ঈদুল আজহা কবে হতে পারে, যা জানা গেল দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে উপচে পড়ছে পেট্রোল-অকটেন, নিচ্ছে না সরকার বাঁচা মরার লড়াইয়ের আগে মোস্তাফিজকে নিয়ে সুসংবাদ পেল বাংলাদেশ

সাতক্ষীরায় অনলাইন জুয়ায় নি:স্ব হচ্ছে উঠতি বয়সী যুবকরা, ধরাছোয়ার বাইরে মাষ্টারমাইন্ড শাহিনুর

রিপোর্টার: / ১৫৬১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় অনলাইন জুয়ায় নি:স্ব হচ্ছে উঠতি বয়সী যুবকরা। জেলার একটা বড় অংশের উঠতি বয়সি কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণীরা। এমনকি মধ্যবয়সীরাও আসক্ত হয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ায়। তবে, ধরাছোয়ার বাইরে আছে মূল প্রতারকরা!

প্রতিদিন হাজার হাজার যুবক-যুবতী ক্লিকে উড়িয়ে দিচ্ছে যাচ্ছে হাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা। এই জেলায় অনলাইন জুয়া সামাজিক ব্যধিতে পরিণত হয়ে পড়েছে। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, মধ্য বয়সী নারী পুরুষ, রিকসাচালক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন তারকাদেরকে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালাতে দেখা যায় অনলাইনে।

সূত্র জানায়, সারাদেশের অনলাইন জুয়ার মাস্টারমাইন্ডদের একজন শাহিনুর রহমান ওরফে মোবাইল শপ শাহিন। তার সহযোগী আছে আরও ১০-১২জন এদের নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্তরে এজেন্ট, সাব-এজেন্ট থেকে এক থেকে দেড়’শ এক্সপার্ট যুবক-যুবতী এই লাইন পরিচালনা করে।

অভিযুক্ত শাহিনুর রহমান সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর এলাকার আবু সাঈদ গাজীর ছেলে। বর্তমানে সবুজের রসুলপুরে বসবাস করে। দরিদ্র ঘরের সন্তান হলেও অনলাইন জুয়ার ডিলার হয়ে এখন বনে গেছে কোটিপতি। বর্তমানে তার রয়েছে অঢেল সম্পদ।

শাহিনুর চড়েন নামি-দামি ব্রান্ডের প্রাইভেট কার ও পাজারুতে। তার সহযোগী মূল এজেন্টদের ১০-১২ জনের একটি বিশেষজ্ঞ টিম। ইতোপূর্বে পুলিশের অসাধু কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে প্রতাপের সাথে চালিয়ে যাচ্ছে তার জুয়ার এজেন্ট ব্যবসা। তার গাড়িতে ব্যবহার করেন পুলিশ স্টিকারসহ ভিআইপি হর্ণ। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই প্রশাসনের লোক দিয়ে তুলে এনে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, এক বছর আগে শাহিনুরের আপন মামাতো ভাই এই জুয়ার কারণে আত্মহত্যা করে। শাহিনুর রহমান দুই থেকে তিন মাস পরপর বিলাসবহুল প্রাইভেট কার পরিবর্তন করে গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন সময় নারী সঙ্গী ও সহযোগীদের নিয়ে কক্সবাজার-কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ করতে যায়। লাখ টাকা খরচ করে মোজাফফর গর্ডেনসহ বিভিন্ন রিসোর্টে করেন মাদক সেবন ও নারী নিয়ে পার্টি দেন।

ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্তরা আরও জানায়, শাহিনুরের আপন মেজো ভাই মাসুদ মাদকসেবী, দুইভাই একই সাথে মাদক সেবন করে। দুই ভাই একাধিক কলগার্ল বিয়ে করে, তাদেরকে দিয়ে মাদক পরিবহনসহ এই জুয়া পরিচালনা করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহযোগী জানান, এর আগেও অনেকবার তার নামে অভিযোগ হয়েছে, সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। তারপরও থেমে নেই তার অপতৎরতা।

অন্যদিকে, ওয়ান এক্স বেট বিডিটি, এক্সবাজি, টিকে-৯৯৯, টাকাবেট এমএন মোটামুটি দেশে প্রচলিত অধিকাংশ জুয়ার সাইটের জেলার গডফাদার শাহিনুর রহমান।

বর্তমানে শাহিনুর সাতক্ষীরা পৌরসভার রসুলপুরে প্রথম জুয়া নিয়ে এসে নিজে পরিচালনা করে এবং কয়েক হাজার যুবক-যুবতির সঙ্গে ভাগাভাগি করে পুরো জেলাসহ দেশের সকল জেলায় তার নেটওয়ার্ক রয়েছে।

রাতরাতি বনে যায় কোটি কোটি টাকার মলিক শাহিনুর হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও র্বতমানে সাতক্ষীরা শহরে তার বিলাসবহুল চারটা বাড়ির মালিক। বাইপাস সড়ক সংলগ্ন একটা জমি কিনে ৮০ লক্ষ টাকা দিয়ে সম্পত্তি গোপনে ভগ্নিপতি ও আত্মীয়স্বজনের নামে বেনামে কিনেছেন। আপন ভাই মাসুদ ও শহীদের ছেলের টুকুকে দিয়ে সাতক্ষীরা জেলার যুবসমাজের ক্ষতি করছেন এই মাষ্টারমাইন্ড শাহিনুর।

একসময় রিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করা শাহিনুরের সম্পত্তি হিসাব করা কঠিন। ক্যাসিনো এবং অনলাইন জুয়ার আড়ালে তার মাদক ব্যবসা করে বিয়ে করেছেন চারটি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জুয়ার সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে সাতক্ষীরা শহর, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলা। এসব এলাকায় জুয়ার প্রভাবে কিশোর গ্যাং সদস্যরা প্রতিনিয়ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

ক্তোভোগী পরিবারের একজন জানান, মোবাইলে জুয়া খেলে টাকা ইনকামের নেশায় অল্প বয়সী কিশোর তরুণরা নিঃস্ব হচ্ছে। আর এসব টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হয়রানি করা। ফলে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস কেউ পায় না। বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হুমকি এবং নির্যাতন চালায়।

বিগত সরকার তিন হাজারের বেশি জুয়ার সাইট বন্ধ করেছে বলে জানা গেছে। সিআইডি, ডিবি ও র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে জুয়ার সাইট পরিচালনাকারী শতাধিক ব্যক্তি। তবে প্রতিটি সাইট বন্ধ করার পরপর এই চক্র ভিপিএন দিয়ে সাইটগুলো আবার সচল করে।

সাতক্ষীরার গ্রাম থেকে শহর চায়ের দোকান থেকে শপিং মল সবজায়গায় পৌঁছে জয়া। জুয়ার টাকা জোগাড় না করতে পের উঠতি বয়সী তরুণরা চুরি- ছিনতাই এর মত অপরাধে ঝুঁকছে। জোটবদ্ধ হয়ে কিশোর গ্যাং তৈরি করে রাতে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে সর্বস্ব লুট করে নিচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহিনুর রহমান বলেন, আমি মোবাইলের ব্যবসা করতাম। জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত না।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃশামিনুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য নেই। বিস্তারিত জানতে পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ