
এ সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
কার্যালয়ে আসা নেতা–কর্মীদের একজন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তিনি নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে দলীয় কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটা হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা গেছি। আজ রোববার চারটার দিকে আমরা গেছি। কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি।’ জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে নতুন কার্যালয়ে একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ বাধা দেয়নি।’
দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন দাবি করে ওই নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আগামী যেকোনো কর্মসূচির জন্য আমরা প্রস্তুত, শুধু ডাক বা নেতৃত্বের অপেক্ষা।’ তাঁর দাবি, তাঁরা ২৫–৩০ জন ছিলেন। সবাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী। কোনো উল্লেখযোগ্য নেতা সেখানে ছিলেন না।
তবে ভিডিওতে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি এম আরিফ ও সদর থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুবেলের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ভিডিওতে কার্যালয়ে আসা নেতা–কর্মীদের বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়।
খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এত দিন একটি অবৈধ সরকার ছিল, মবের রাজত্ব চলছিল। আমাদের রাজনৈতিক অধিকার আছে। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
আমরা মনে করছি, কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সে হিসেবেই আমাদের নেতা–কর্মীরা আজ কার্যালয়ে গেছেন। আমাদের ওপর যে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা ছিল, আমরা মনে করি নির্বাচিত সরকার একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে। সব মিলিয়ে আমরা আশা করছি, শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’
৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।
এদিকে এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তাঁরা।