• আজ- সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
তালার কলিয়া বাজারে যুবদলের কার্যালয়ে তালা, দখলের অভিযোগে উত্তেজনা খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান পদত্যাগ করেছেন আইজিপি সাতক্ষীরায় পরাজিত দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৫ বিএনপির ‘দুর্গ’ খুলনা-২ আসনে ‘হেভিওয়েট’ মঞ্জুর পরাজয়ের নেপথ্যে এনসিপি নেতা ও সাংবাদিক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ সারজিসের, যা জানা গেল দেশ ছাড়ার কারণ জানালেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী রাজনৈতিক পালাবদল: বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে পারবে ভারত? তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে কি উপস্থিত থাকবেন মোদি?

খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

রিপোর্টার: / ২৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

খুলনা প্রতিনিধি: গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে পরিত্যক্ত থাকা খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো দলের নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। রোববার বিকেলে নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে প্রবেশ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একদল নেতা–কর্মী।

এ সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

কার্যালয়ে আসা নেতা–কর্মীদের একজন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তিনি নাম প্রকাশ না করে  বলেন, ‘আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে দলীয় কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটা হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা গেছি। আজ রোববার চারটার দিকে আমরা গেছি। কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি।’ জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে নতুন কার্যালয়ে একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ বাধা দেয়নি।’

দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন দাবি করে ওই নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আগামী যেকোনো কর্মসূচির জন্য আমরা প্রস্তুত, শুধু ডাক বা নেতৃত্বের অপেক্ষা।’ তাঁর দাবি, তাঁরা ২৫–৩০ জন ছিলেন। সবাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী। কোনো উল্লেখযোগ্য নেতা সেখানে ছিলেন না।

তবে ভিডিওতে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি এম আরিফ ও সদর থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুবেলের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ভিডিওতে কার্যালয়ে আসা নেতা–কর্মীদের বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়।

আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে খুলনা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এত দিন একটি অবৈধ সরকার ছিল, মবের রাজত্ব চলছিল। আমাদের রাজনৈতিক অধিকার আছে। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে।

আমরা মনে করছি, কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সে হিসেবেই আমাদের নেতা–কর্মীরা আজ কার্যালয়ে গেছেন। আমাদের ওপর যে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা ছিল, আমরা মনে করি নির্বাচিত সরকার একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে। সব মিলিয়ে আমরা আশা করছি, শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।

এদিকে এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তাঁরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ