
নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলভুক্ত কর্মকর্তাদের সরিয়ে অর্থের বিনিময়ে অন্যদের যুক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পশুপতি সিংহের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন দায়িত্ব থেকে বাদ পড়া একাধিক কর্মকর্তা।
বাদপড়া কর্মকর্তাদের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তারা প্যানেলভুক্ত হয়ে নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে পোস্টাল ব্যালটের আবেদন করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন থেকে তাদের নামে পোস্টাল ব্যালটও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তাদের নামে নির্বাচনী প্রশিক্ষণের কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি। পরিবর্তে যাদের নাম মূল প্যানেলে ছিল না এবং যারা পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেননি, তাদের নামে প্রশিক্ষণের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই রদবদলের পেছনে রয়েছে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১০ জন শিক্ষক (যারা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন) অভিযোগ করেন, পোলিং অফিসার পদের জন্য ৫০০ টাকা। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার পদের জন্য ১ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পশুপতি সিংহ এই অর্থ গ্রহণ করে মূল তালিকা ওলটপালট করে অযোগ্য ও অপ্যানেলভুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পশুপতি সিংহের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, পশুপতি সিংহ মূলত নির্বাচন সংক্রান্ত সরাসরি কোনো কাজ করেন না, তাই এমনটি হওয়ার কথা নয়। এই তালিকা মূলত নির্বাচন অফিস তৈরি করেছে এবং আমি সেখানে পরামর্শক হিসেবে ছিলাম। তবে যেহেতু বিষয়টি এখন আমার নজরে এল, আমি অবশ্যই এটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখব। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।