
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিষ্ট্রারের অফিসে আমমোক্তারনামা দলিল সৃষ্টিতে বাধা, হামলা, মারপিট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্য কাটিয়ার শাহ্ আব্দুর রহমানের ছেলে ও এনটিভি’র সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এমএম জুলফিকার আলি জিন্নাহ বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১২ জনের বিরুদ্ধে বুধবার সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন, শহরের কাটিয়া লস্করপাড়ার সৈয়দ শাখাওয়াত আলীর ছেলে সৈয়দ রেজাউল হোসেন টুটুল, তার ছেলে মোঃ শিহাব, শহরের মুনজিতপুরের ইশারত আলী পান্নার ছেলে শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কাটিয়ার শেখ মোশাররফ হোসেনের ছেলে শেখ মাহাবুব উল্লাহ, সদর উপজেলার ঘোনা গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে তরিকুল ইসলাম, শহরের পলাশপোলের সাইফুল ইসলাম।
মামলার বিবরনে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা সোনাডাঙা থানার পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার মোকসুদার রশিদের লক্ষীদাঁড়ি মৌজার ১৮ শতক জমি আমমোক্তারনামা দলিল করে নেওয়ার জন্য এমএম জুলফিকার আলি জিন্নাহ সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসারের এজলাসে আসেন।
ওই জমির আমমোক্তারনামা দলিল করে নেওয়ার জন্য মাকসুদার রশিদকে ইতিপূর্বে কয়েক দফায় ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকী পাঁচ লাখ টাকা রেজিষ্ট্রি সম্পাদনের সময় দেওয়ার কথা। রেজিষ্টারের এজলাসে আমমোক্তারনামা রেজিষ্ট্রির কাজ করার সময় উপরোক্ত আসামীরা চাঁদা বাবদ ৫০ লাখ টাকা চাইলে আসামীদের সাথে কথাকাটাকাটি হয় জুলফিকার আলি জিন্নাহ’র।
একপর্যায়ে রেজিষ্টারের এজলাস থেকে আসামীরা জিন্নাহকে ঘার ধরে মারতে মারতে বাইরে আনে। এ সময় তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কিল- ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাকে অ্যাড. আজাদ হোসেন বেলালের বাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে আবার এজলাসের মধ্যে এনে আটকে রেখে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তাকে ক্ষয়ক্ষতি করার জন্য ভয় দেখানো হয়। পরে আবারো তাকে মারপিট করা হয়। এ সময় আসামী টুটুল তার পকেটে থাকা দুই লাখ টাকা ও আসামী মামুন তার পকেটে থাকা তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্বজনরা জিন্নাহকে সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এমএম জুলফিকার আলি জিন্নাহ বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বুধবার থানায় একটি মামলা (জিআর- ১১৬ সাতঃ) দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত এর উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।