
যশোর প্রতিনিধি: নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় যশোরের ৬টি সংসদীয় এলাকায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হামলায় জামায়াতের অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
শুক্রবার প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্য যশোর-১ আসনের মাওলানা আজীজুর রহমান, যশোর-২ আসনের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের গাজী এনামুল হক ও যশোর-৬ আসনের অধ্যাপক মোক্তার আলী। সংবাদ সম্মেলনে তারা নিজ নিজ এলাকার সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেন।
জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল লিখিত বক্তব্যে বলেন, জেলার বিভিন্ন আসনে নির্বাচনের আগে মহিলা ভোট-কর্মীদের নির্যাতন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোটার কর্মী ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। ঝিকরগাছার নাভারণ ইউনিয়নের বায়সা গ্রামের বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের সমর্থক রেজাউল হোসেনের পেটে ছুরিকাঘাত করেছে। বায়সা বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গ্রামের এক নারী ভোটারকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেছে। বিভিন্ন গ্রামে ভোটারদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। চৌগাছায় জগদীশপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জেম ও কমিটি থেকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আবেদ আলীর বাড়িতে রামদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে। বাড়ির জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেছে এলাকার মেহের আলী, রবিউল ইসলাম, ইমামুল, আল আমিন, হোসেন আলী, বাবু, রাজ্জাক, মুনতাজসহ অজ্ঞাত আরও অনেকে।
ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাবরকাটি গ্রামের সাবেক মেম্বার তোফাজ্জেলের বাড়ি-ঘরও ভাঙচুর করা হয়েছে। তার মেয়েকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করেছে। এরপর মেয়েটি আÍহত্যার চেষ্টা করেছে।
শার্শার বেলতা জামায়াতের নির্বাচনি কাজ চলাকালে বিএনপির স্থানীয় নেতা মিলন বিশ্বাস (৬৫) ও তরিকুল বিশ্বাসের (৫৫) নেতৃত্বে একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় অংশ নেয় মনসুর (৫০) ও তার দুই ছেলে মারুফ (২৫) ও মামুন (২৪), লতা ডাক্তারের ছেলে জীম (২০), এক্সরের ছেলে টিপু (২৪), মসলেমের ছেলে ওদু বিশ্বাস (৪২) এবং মৃত কাওসারের ছেলে টুকু বিশ্বাস (৫৬)।
হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জামায়াত কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। শার্শার ল²ণপুর ইউনিয়নে বিএনপির নেতা আহসান হাবীব খোকন ও আরমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি একজন প্রিজাইডিং অফিসারকেও মারধর করা হয়েছে।
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হলেও নির্বাচনের পরপরই বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। ফলে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মী নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
সদর উপজেলার সুজলপুরের জামতলার মোড়ে কে বা কারা বৃহস্পতিবার রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর শুক্রবার সকালে জামায়াত কর্মী সুমনের বাড়িতে বিএনপির ৩০ জন গিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করে। ওই সময় সুমন বাড়িতে ছিলেন না। তারা সুমনকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও প্রতিশোধমূলক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। শার্শা, মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া অভয়নগরেও অনুরূপ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলমান। আমরা এর প্রতিকার চাই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ভালো ছিল। তবে নির্বাচন পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভ‚মিকা সন্তোষজনক নয়।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, হামলাসংক্রান্ত তথ্য আমাদের কাছে নেই। জামায়াতের পক্ষ থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার প্রমাণ দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।