
নিজস্ব প্রতিনিধি: আনসার ভিডিপি উপজেলা অফিসারদের বিরুদ্ধে জাল সনদ নিয়ে আনসার ভিডিপি ইউনিয়ন দলনেত্রী নিয়োগ করাসহ অর্থ কেলেঙ্কারির দায়ে শোকজ হয়েছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে আনসার ভিডিপির দলনেত্রী শামছুন্নাহার এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয় জামিরুল ইসলাম জামু।
ওই মিথ্যা অভিযোগ কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই দলনেত্রীর পদ থেকে শামছুন্নাহারকে অব্যাহতি দেয় ততকালিন দূর্নীতিবাজ জেলা কমান্ড্যান্ট মোর্শেদা খানম। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শ্রীউলা ইউনিয়ন দলনেত্রী হিসাবে, কথিত অভিযোগকারী জামিরুল তার মেয়ে শারমিনকে একই পদে নিয়োগ করতে আশাশুনি উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার আরিফা খাতুনের মাধ্যমে ভুয়া ভিডিপি সনদ দিয়ে সম্প্রতি দলনেত্রী হিসাবে যোগদান করেন।
বিষয়টি এলাকাবাসি প্রতিবাদ করেও কোনো আইনি সহায়তা পাইনি অবৈধ অর্থের জোরে ও দূর্নীতিবাজ অফিসার আরিফার ক্ষমতার অপব্যাবহারের কারন। বিষয়টি আইনি প্রতিকার চেয়ে আশাশুনির শ্রীউলা গ্রামের বাবু গাজী চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঢাকা সদর দপ্তর এর মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শুধু তাই নয় ওই অভিযোগের অনুলিপি উপমহাপরিচালক, খুলনা বিভাগীয় রেজ্ঞ সহ সাতক্ষীরা জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্টসহ ৬ টি দপ্তরে প্রেরণ করেন।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, শারমিন আনসার ভিডিপি ট্রেনিং প্রাপ্ত না হয়েও উপজেলা অফিসার আরিফা খাতুনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে দলনেত্রী হিসাবে নিয়োগ এর জন্য যশোর ট্রেনিং করেছে যা আরিফা খাতুন ও শারমিনের জন্য শাস্তি যোগ্য অপরাধ।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, আরিফা খাতুন আশাশুনিতে যোগদান করে অফিসটি বানিজ্য খুলে বসেছে। এমনকি আরিফা খাতুন সরকারি অফিস বসত বাড়ির মত রান্না খাওয়াসহ বসবাস করেন। শুধু এখানে শেষ নয়, আরিফার বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুত্বর বিস্তার অভিযোগ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনি আওয়ামী লীগের দোসর হিসাবে দলীয় কর্মকাণ্ড করেন এবং অন্য দলীয় লোকজনকে তিরস্কার করেন।
সাতক্ষীরা জেলা আনসার মনিটরিং উজ্জলকে এই অভিযোগে অভিযুক্ত করে একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মনিটরিং উজ্জল ধামা চাপা দিতে চেয়ে ছিল ঘুষের বিনিময়ে এবং আরিফা খাতুনের কথা মতো সেটা তারা পারিনি। মনিটরিং উজ্জল গোপনে শারমিন ও তাদের পক্ষের লোক নিয়ে সরেজমিনে না এসে আশাশুনি কেওড়া বাগানে একতরফা নাম মাত্র তদন্ত করেছে এবং তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এবিষয়ে আরিফা খাতুনের ব্যাবহিত মোবাইল নং কল দিলে ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মনিটর উজ্জল এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার কাজ হেড অফিসে তথ্য দেয়া, তাছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই। সাতক্ষীরা আনসার ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রুবেল হোসেন বলেন, আমি প্রাথমিকভাবে শারমিন এর সনদ জাল প্রমানিত পেয়েছি। তাই ওকে আইনের আওতায় আনবো এবং তাকে চাকরিচ্যুত করবো। কারণ আনসার ডিপার্টমেন্ট একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী এ বাহিনীর কোনো সদস্য অন্যায় করতে পারে না এবং কেউ করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি দেয়া হয়।