
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রত্যয় নিয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মাসুদ পারভেজ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জেলা গড়তে হলে আগে আইন-শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জেলার বর্তমান নিরাপত্তা চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন:জেলা পুলিশ সন্ত্রাস, মাদক, মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করবে।ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক সিগন্যাল যথাযথভাবে অনুসরণ এবং লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ লুৎফুন নাহার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়: চোরাচালান ও মানব পাচার রোধ: সীমান্ত এলাকা হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় চোরাচালান ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত টহল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। অনিষ্পন্ন চোরাচালান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়।
সড়ক নিরাপত্তা: সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের নির্ভুল ও সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব করা হয়। জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আদালত সহায়তা কার্যক্রম: বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে আদালত সহায়তা কার্যক্রমের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ: কোনো প্রকার উগ্রবাদ বা নাশকতা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন এবং জেলা প্রশাসক দ্রুত সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফুন নাহার বলেন, “প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। চুয়াডাঙ্গাকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সকলে মিলে কাজ করব।”