• আজ- শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
তালায় মাছ চুরি সন্দেহে হাত-পা ভেঙে, কুপিয়ে ঘের ব্যবসায়ীকে হত্যা দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে মব সৃষ্টি করে শামীম হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা: গ্রেফতার- ২ দেবহাটায় ফেসবুকে প্রকাশ্যে উস্কানি দিয়ে মব সৃষ্টি করে হত্যাকাণ্ড: নীরব ভূমিকায় পুলিশ সাতক্ষীরায় আলোচিত জাকারিয়া হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কথিত তৌহিদী জনতার নেতার ইন্ধনে মব সৃষ্টি: যুবকের মৃত্যু সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু জিয়া বাহিনীর হাতে ২ জেলে অপহরণ: সুন্দরবনে আবারো মুক্তিপন দাবি সাবেক এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এড. এন্তাজ আলীর স্ত্রী ও অপরাধ বার্তার প্রকাশক সুজয়ের মায়ের মৃত্যু, দাফন সম্পন্ন: শোক জ্ঞাপন গুড় পুকুর মেলা থেকে প্রতিদিন ১৩ লাখ টাকা আদায়: নীরব প্রশাসন শ্যামনগরে মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে মব সৃষ্টি করে শামীম হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা: গ্রেফতার- ২

রিপোর্টার: / ৫৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটার আলোচিত ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১০ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরো ২০০/২৫০ জনকে আসামী করে দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন হত্যাকান্ডের শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বড় ভাই দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত সামছুর রহমান সানার ছেলে আব্দুল জলিল সানা (৫২)। যার মামলা নং- ০৯, তাং- ১৫/১০/২৬।

 

 

পুলিশ ওই মামলার ৫ ও ৬নং এজাহারনামীয় আসামী উপজেলার নাজিরের ঘের এলাকার রহিম বক্স মোল্যার ছেলে আসাদুল ইসলাম মোল্যা (৪৬) ও সুবর্ণাবাদ এলাকার মৃত মাহাতাব উদ্দীন খানের ছেলে মোক্তার হোসেন খান (৫৩) কে গ্রেফতার করেছে।

 

মামলার এজাহার মতে জানা গেছে, মামলার ১নং আসামী ফজলুল হক আমিনী (৪৫), পিতা- কারী রুহুল আমিন, সাং- দক্ষিণ পারুলিয়া ও ২ নং আসামী সাদিকুল ইসলাম ওরফে ভদু (২৮), পিতা- শওকত আলী, নিশ্চিন্তপুরসহ এজাহারনামীয় ১০ জন ও অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জন আসামী তার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বাদীর ভাই মৃত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। গত ১২ অক্টোবর দুপুর ১২ টার সময় তার ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে তার সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। একপর্যায়ে বাদীর ভাইয়ের স্ত্রী তার ভাইকে বলে তুমি যে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করছো এই বিচার আল্লাহ করবে।

 

 

তখন তার ভাই তার স্ত্রীর সাথে আরো তর্কে জড়িয়ে যায়। তার ভাই মৃত ওহিদুজ্জামানের স্ত্রীর সহিত উক্ত তর্ক-বিতর্ক তার ভাইয়ের ঘরের পাশ থেকে কে বা কাহারা মোবাইলে রেকর্ড করে উক্ত রেকর্ড আশেপাশের মানুষসহ স্থানীয় জামায়াত অফিসে উপস্থিত সকলকে শুনিয়ে উক্ত তর্কের ভিতরে আল্লাহ এবং নবী বিরোধী কথা আছে মর্মে এলাকায় রটিয়ে দেয়। পরবর্তীতে এজাহারনামীয় আসামীরা তার ভাইয়ের বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে আমার ভাইয়ের বাড়ি ঘেরাও করে বাড়ি ভাংচুর করতঃ তার ভাইকে ঘর হইতে বের করে দিতে বলে। তার ভাই প্রাণ ভয়ে বাড়ীর পিছন দিয়ে পালিয়ে প্রানে বাঁচে।

 

অতপরঃ তার ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়লে একই দিন রাত অনুমান ১০ টায় কুলিয়ার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন । পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর বিকাল অনুমান ৫টার দিকে ১ ও ২ নং এজাহারনামীয় আসামীদ্বয় তার ভাইয়ের অবস্থান জানতে পেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ১ নং আসামীর হুকুমে ও নেতৃত্বে এজাহারনামীয় সকল আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জন দেবহাটা থানাধীন পশ্চিম কুলিয়া সাকিনস্থ জনৈক আব্দুস সবুর ডাক্তারের চেম্বারের সামনে গিয়ে তার ভাই ওয়াহিদুজ্জামান শামীম ইসলাম ধর্ম অবমাননা করেছে মর্মে অপবাদ দিতে থাকে এবং ডাক্তারের নিষেধ অমান্য করে তাকে উক্ত চেম্বার থেকে টেনে হিচড়ে রাস্তায় বের করে নিয়ে আসে।

 

 

এজাহারনামীয় ১ ও ২ নং এবং এজাহারনামীয় সকল আসামী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে রাস্তায় ফেলে তার বুকে, মুখে, মাথায়, পেটে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল, ঘুষি মারতে থাকে। তার ভাই অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন দেবহাটা থানায় খবর দিলে থানার পুলিশ তার ভাইকে মূমুর্ষ অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় আসামীরা মিছিল সহকারে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। আসামীগণ নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার স্লোগান দিতে থাকে।

 

 

হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য, তার ভাইয়ের সাথে ডিউটিতে থাকা পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আসামীগণকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এজাহারনামীয় আসামীগণ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসপাতালের মূল ফটক এবং পিছনের ফটক দিয়ে প্রবেশ করে তার ভাইকে হাসপাতালের বেড থেকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় নিয়ে এসে দুই হাত এবং দুই পা ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসপাতালের দেওয়ালে কয়েকবার আছাড় মারে। এসময় এজাহারনামীয় সকল আসামীসহ কতক অজ্ঞাতনামা আসামী আমার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মারে। একপর্যায়ে তারা মৃত্যু নিশ্চিত করে সেখান থেকে চলে যায়।

 

 

ঘটনা উল্লেখ করে মামলা দায়ের পরবর্তী দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ এইচ এম শাহীনের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিন সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে রাতব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় ৫ ও ৬নং আসামীদেরকে গ্রেফতার করেন। দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ এইচ এম শাহীন জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আলোচিত এই মামলাটি রেকর্ড পরবর্তী দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ২জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সকল আসামীকে গ্রেফতারে  পুলিশী অভিযান চলমান রয়েছে বলে ওসি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ