
আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রায় অর্ধশতাধিক এনজিও’র অফিস থাকলেও তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে সম্পন্ন হয় দায়সারা প্রোগ্রাম। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিয়মের দিকনির্দেশনা থাকলেও তড়িঘড়ি করে দায়সারা ভাবে একের পর এক চলছে দায়সারা নিয়মের প্রোগ্রাম। নেই কোনো সময় সীমা। র্যালী ও আলোচনা সভা না করে ফটোসেশন শেষ করেই হয় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি।
একই দিনে একাধিক প্রোগ্রাম থাকলে শুধু ফটোসেশন করেই শেষ হয় দিনের কার্যক্রম। ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠান থাকলেও একই ছবি ব্যবহার করে অন্য আরেক অনুষ্ঠান দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সাথে করা হয় প্রতারণা। তাদের বাজেট অনুযায়ী নাস্তা, লাঞ্চ এবং পথ খরচ দেওয়ার কথা থাকলেও এনজিও কর্মীদের যোগসাজশে খোয়া যাচ্ছে তাদের প্রাপ্য অধিকার। দেওয়া হয় না বাজেটের সঠিক অর্থ।
আশাশুনিতে উত্তরণ, রুপান্তর, ইএসডিও , জেজেএস, বিটিএস, কারিতাস, ব্রাক, সুশিলন, ফ্রেন্ডশীপ, এনজিএফ, সাজিদা ফাউন্ডেশন, সাস, ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স, আইডিয়ালসহ ক্রেডিট ও প্রজেক্টের ৩৫ থেকে ৪০ টি এনজিওর কার্যক্রম থাকলেও অনেকেই বিরুদ্ধে রয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
প্রজেক্ট এনজিওগুলোর প্রকল্পে নতুন বাড়ি, টয়লেট, রাস্তা সংস্কার, ক্লিনিক ও স্কুলের ভবন নির্মাণের বরাদ্দ থাকলেও হয়েছে একাধিক অনিয়ম। এনজিও কর্মীদের যোগসাজশে নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সরঞ্জাম। তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করা হলেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
গতবছরের তুলনায় এবছর দেখা যায়নি কম্বল বিতরণ। শেষ সময়ে অনেকেই কম্বল বিতরণ করলেও ছিলো খুবই নিম্নমানের এবং আগে থেকেই পছন্দের ব্যাক্তিদের ছিলো তালিকায় নাম।ফলে বঞ্চিত হয়েছে অসহায় দরিদ্র সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, দায়সারা প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে এনজিও কর্মকর্তারা নিজেরাই হয়ে যায় রিপোর্টার। তারা তাদের ফটোসেশনের ছবি উঠিয়ে সাংবাদিকদের অগোচরে নিজেরাই ফেসবুক সহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে প্রোগ্রাম সফল ভাবে হয়েছে মর্মে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকের চোখের আড়ালে এমন অপকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছে।
আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্পাদক জানান, বিগত সময়ে এনজিওর কোনো প্রোগ্রাম হলে প্রেসক্লাবে চিঠির মাধ্যমে সাংবাদিকদের দাওয়াত করলে সাংবাদিকরা প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে নিউজ কাভারেজ দিতো। কিন্তু বর্তমানে এনজিওর কোনো প্রোগ্রাম হলেও আমাদের প্রেসক্লাবে চিঠি দেয় না। তবে শুনেছি কিছু কিছু সময়ে গায়েবি প্রোগ্রাম হয় , যা আমরা বা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরাও জানেনা।
তবে যতটুকু জানা যায় যে অনেকের র্যালী শেষ না হতেই আরেকটি ব্যানার দিয়ে ফটোসেশন। জাল করে নাস্তা,টিএ,ডিএর বিল উঠান দায়িত্বশীলরা । আশাশুনিতে এনজিওর কর্মকর্তারা তাদের অধিকাংশ প্রোগ্রাম আমাদের আড়ালে করে। আমরা খোঁজ খবর নিলেই তারা বলে প্রোগ্রাম শেষ হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে খোঁজ নিলে জানা যায়, তারা নাম মাত্র ফটোসেশন করেই চলে আসে। মাঝে মাঝে হঠাৎ এনজিও কর্মকর্তারা অচেনা জায়গার ছবি হোয়াটসঅ্যাপে বা মেইলে দিয়ে বলে ভাই উমুক প্রোগ্রাম হয়েছে নিউজ টা করে দিয়েন আগামীকাল পেপার কাটিং লাগবে, অফিসে পাঠাতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনজিওর প্রোগামে অংশগ্রহণ করতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, তাদের ঠিকমত অনুষ্ঠানের যে বাজেট থাকে তা দেওয়া হয় না। সঠিক প্রাপ্য বাজেটে অর্থ বুঝে পেতে চাইলে তাদের দেওয়া হয় হুমকি। বলা হয় পরবর্তীতে প্রোগ্রামে আর ডাকা হবে না, তোমাদের পরিবর্তে আমরা স্বাক্ষর করে অনারিয়াম উঠিয়ে নেবো। হুমকির কবলে পড়ে অসহায় ক্ষতিগ্রস্তরা প্রতিবাদ করতে ভয় পেয়ে চুপ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা এনজিও সমন্বয়কারী আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, এর আগে আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি সব প্রোগ্রামে সাংবাদিকদের জানাতে। সাংবাদিকদের না জানানো বা ঠিঠি না দেওয়া অন্যায় হয়েছে। তাদের উচিৎ ছিলো বলা। আজকে তিনটি প্রোগ্রাম হচ্ছে আমি নিজেও জানিনা। এগুলো খোঁজ খবর নেওয়া হবে। আমি ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো। এনজিও কর্মীদের বেতন ভাতা আত্মসাতের প্রশ্নে তিনি যাচাই-বাছাই করবে বলে জানান।
এনজিওর প্রোগ্রামে ফটোসেশনসহ একাধিক প্রশ্ন করা হলে তিনি তার স্বপক্ষে উত্তর দিতে পারেননি। তবে অনুষ্ঠানের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারা স্বপক্ষে কোনো উত্তর দিতে না পারায় তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, এনজিওর লিষ্ট দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এনজিও কর্মকর্তাদের গাফিলতি, অনুষ্ঠান সঠিক ভাবে পরিচালনা ও অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীদের সঠিক বাজেট বুঝে পাইতে পারে সেজন্য এনজিওর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।