
স্পোর্টস ডেস্ক: ইরানি নারী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড়কে তাদের হোটেল থেকে বের করে আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন এই বিষয়টি। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ সোমবার রাতে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
দলের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচজন খেলোয়াড় এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকার করেন। এরপর ইরান সরকার তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিহ্নিত করে।
আশ্রয় পাওয়া পাঁচজন হলেন ঘানবারি, জাহরা সারবালি আলিশাহ, মোনা হামুদি ও আতেফেহ রামেজানিজাদেহ — এদের সবার বয়স ত্রিশের কোঠায় — এবং ২১ বছর বয়সী ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্ক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আশ্রয় নিয়ে আলোচনা কয়েক দিন ধরে চলছিল। মঙ্গলবার ভোর দেড়টায় মানবিক ভিসার কাজ শেষ হতেই সেখানে থাকা সবার মধ্যে উৎসব শুরু হয়।
বার্ক বলেন, ‘গত রাতে সব কিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর অনেক ছবি তোলা হলো, অনেক আনন্দ হলো। এই নারীরা দারুণ খেলোয়াড়, দারুণ মানুষ। তারা অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করবেন।’
পাঁচজনের মধ্যে চারজন বাম খাতুন ক্লাবের খেলোয়াড়। এই ক্লাব রেকর্ড ১১ বার ইরানের নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। ঘানবারিও এই মৌসুমে পার্সেপোলিসে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই ক্লাবেই ছিলেন।
অধিনায়ক ঘানবারি ২০২৪ সালে একটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গোল উদযাপনের সময় তার হিজাব খুলে পড়ে যায়। এরপর তাকে কয়েক দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তিনি ও বাম খাতুন ক্লাব ক্ষমা চাওয়ার পর তাকে আবার খেলতে দেওয়া হয়। ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার ইরানের নারী ফুটবলে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা।
রোববার ফিলিপাইনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের শেষ ম্যাচেও তার হিজাব বারবার খুলে পড়ে যায়। সেই ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ইরান।
বার্ক জানিয়েছেন, গোল্ড কোস্টের হোটেলে থাকা বাকি ২১ জন খেলোয়াড়ের জন্যও আশ্রয়ের সুযোগ খোলা আছে। তবে তার মতে, কেউ কেউ হয়তো ইরানে ফিরে যাবেন।