
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে উদ্ধারের তিন দিন পার হলেও ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার কোন ডিলারের গোডাউন থেকে বের হয়েছে-তা শনাক্ত না হওয়ায় ঘটনাটি এখন নিছক উদ্ধার নয়, বরং একটি সম্ভাব্য ধামাচাপা দেওয়ার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। প্রশ্ন উঠছে, এই সার কি সত্যিই চোরাই ছিল, নাকি চোরাই সারকে বৈধতার ছায়ায় আড়াল করা হচ্ছে?
স্থানীয়দের ভাষ্য, ‘গডফাদার’ ছাড়া এমন পরিবহন সম্ভব নয়-তাহলে তদন্ত থেমে আছে কার স্বার্থে? দ্রুত ঊর্ধ্বতন তদন্ত না হলে এই ঘটনা সিন্ডিকেট রক্ষার নজির হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে।
এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-এটি কি আদৌ চোরাই সার ছিল? নাকি চোরাই সার উদ্ধার হলেও তা ‘চোরাই’ হিসেবে নথিভুক্ত করা এড়ানো হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ডিলারের গোডাউন থেকে যদি এই সার বের হয়ে থাকে, তবে বরাদ্দ তালিকার সঙ্গে বাস্তব মজুদের অমিল ধরা পড়ার কথা। কিন্তু তিন দিনেও কোনো গোডাউন তল্লাশির খবর না পাওয়া তদন্তে গড়িমসিরই ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় কৃষক রফিকুলের অভিযোগ-এই ধরনের অবৈধ সার পরিবহন সাধারণত ‘গডফাদার’ ছাড়া সম্ভব নয়। তাহলে কি প্রভাবশালী কোনো সিন্ডিকেটের চাপে তদন্ত থমকে আছে? নাকি প্রশাসনের ভেতর থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে?
সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশ্ন উঠছে উপজেলা কৃষি অফিসের ভূমিকা নিয়ে। কারণ ডিলার তালিকা, বরাদ্দ, পরিবহন নিয়ম, সব তথ্যই কৃষি অফিসের হাতে থাকার কথা। তবু যদি তিন দিনেও সারটির উৎস শনাক্ত না হয়, তবে সেটি কি দায়িত্বহীনতা, নাকি সচেতন নীরবতা?
কৃষক সাঈদুজ্জামানের প্রশ্ন এখন একটাই-এই ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার কি সত্যিই বেওয়ারিশ ছিল, নাকি তদন্তের আড়ালে চোরাই সারকে বৈধতার ছায়ায় ঢেকে দেওয়া হচ্ছে? নাকি এর পিছনে আরও বড় কোন চালান আছে?
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়াসীম উদ্দীন বলেন, “উদ্ধারকৃত সারগুলো বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। মেমো ও মালিকানা সংক্রান্ত কাগজ না থাকায় আমরা যাচাই-বাছাই করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।” তিনদিন পেরিয়ে গেলেও ২৯ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অবৈধ ৩০ বস্তা ইউরিয়া সারের কোন ক্রেতা বিক্রেতা উদ্ধার করতে পারিনি উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়াসীম উদ্দীন। তাকে প্রশ্ন করা হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যান।
কালিগঞ্জ উপজেলা হিসাব রক্ষক মোঃ নাজিম উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সার বিক্রির কোন কোড কৃষি অফিসার আমার কাছ থেকে নেননি বা কোন টাকা জমা দেননি।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন আমি শুনেছি। কিন্তু কোন গোডাউনের সার সেটা আপনি কালিগঞ্জের কৃষিবিদ ওয়াসিম উদ্দীনের কাছে জিজ্ঞাসা করে দেখেন।
তিনি আরও বলেন, মালিক না পাওয়া গেলে সার বিক্রি করে সরকারী কোষাগারে জমা দিবে। আমি তদন্ত করে দেখবো বিষয়টি কি?
তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন-যেখানে ডিলার তালিকা, বরাদ্দ ও গোডাউন তথ্য কৃষি অফিসের হাতেই রয়েছে, সেখানে তিন দিনেও সারটির উৎস শনাক্ত না হওয়া কি কেবল সময়ের বিষয়, নাকি তদন্তে অনীহার প্রতিফলন?