• আজ- শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতার ছেলের তিন বছর ঘনিষ্ট প্রেমের সম্পর্ক: আজ বিয়ের পিড়িতে বসছেন অন্য মেয়ের সাথে আশাশুনিতে শিক্ষিকার যোগদানের সাড়ে ৩ বছরে অধিকাংশ সময় ছুটি আর অনুপস্থিত: বেতন তুলেছেন ষোলআনা কালিগঞ্জে ইনকিলাবের ৪০তম বর্ষপূর্তি উৎযাপন জমিজমা বিরোধে হামলা: ভয়ভীতি ও মামলার অভিযোগ সাতক্ষীরায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে আদালত চত্বরে হামলা খুলনায় গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার জীবিত বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপি ভোজিনিয়ার খেলা এবার সরাসরি দেখবেন তার মা খালি পায়ে খেলা সেই ছেলেই এখন মেক্সিকোর বিশ্বকাপ নায়ক যেসব দেশে আটকে আছে ইরানের ১০ হাজার কোটি ডলার

কালিগঞ্জে সাবেক ডেপুটি কমান্ডারের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

রিপোর্টার: / ৭৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ঘর ও মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত করার নামে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ ১৬ বছর যাবত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি একের পর এক অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন। তবে টাকা নিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ঘর বা সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেননি।

প্রায় দুই বছর আগে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বামনহাট গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোতাহার হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের কাছ থেকে সরকারি ঘর দেওয়ার নাম করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন আব্দুল হাকিম। কিন্তু আজও ওই নারী একটি ঘরও পাননি।

ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধ করেছে। সেই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। দুই বছর ধরে ঘর দিবে বলে শুধু আশ্বাস দেয়। এখন টাকা চাইলে বলে পরে দেবে। আমি কোথায় যাব?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি নয়। উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর ও সরকারি গেজেট ভুক্ত করে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার।

ভুক্তভোগীরা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত হোসেন বলেন, আব্দুল হাকিম ঘর ও গেজেটভুক্ত করার নামে অনেক মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছিলেন অতি প্রভাবশালী। সেই সুযোগেই এই অর্থ বাণিজ্য চালিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাকিম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করিনি। যারা সুবিধা পায়নি, তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঘর দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সম্মানিত মানুষদের নাম ব্যবহার করে এই অর্থ বাণিজ্য দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চরমভাবে অপমান করেছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, টাকা উদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ