• আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সাতক্ষীরা ডি.বি ইউনাইটেড হাই স্কুলে মেধাবৃত্তি পেল তিন শিক্ষার্থী পারুলিয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় আনন্দ এনজিও’র ৫ হাজার সদস্যের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত সাতক্ষীরা দেড়দশক ধরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল শওকত-পটল কালিগঞ্জে দিনে-দুপুরে মহাসড়কে সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাইক, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু কালিগঞ্জে এক ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ মেম্বার পদপ্রার্থী ১০: বিভ্রান্তিতে ভোটাররা আশাশুনিতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ: গ্রেফতার দেবহাটার শামীম হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: প্রধান আসামি আমিনীকে ছাড়াতে ‘উগ্রপন্থীরা’ তৎপর কালিগঞ্জে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

কালিগঞ্জে সাবেক ডেপুটি কমান্ডারের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটি টাকা লুটের অভিযোগ

রিপোর্টার: / ১১৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ঘর ও মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত করার নামে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ ১৬ বছর যাবত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি একের পর এক অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন। তবে টাকা নিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ঘর বা সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেননি।

প্রায় দুই বছর আগে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বামনহাট গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোতাহার হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের কাছ থেকে সরকারি ঘর দেওয়ার নাম করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন আব্দুল হাকিম। কিন্তু আজও ওই নারী একটি ঘরও পাননি।

ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধ করেছে। সেই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। দুই বছর ধরে ঘর দিবে বলে শুধু আশ্বাস দেয়। এখন টাকা চাইলে বলে পরে দেবে। আমি কোথায় যাব?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি নয়। উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর ও সরকারি গেজেট ভুক্ত করে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার।

ভুক্তভোগীরা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত হোসেন বলেন, আব্দুল হাকিম ঘর ও গেজেটভুক্ত করার নামে অনেক মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছিলেন অতি প্রভাবশালী। সেই সুযোগেই এই অর্থ বাণিজ্য চালিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাকিম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করিনি। যারা সুবিধা পায়নি, তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঘর দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সম্মানিত মানুষদের নাম ব্যবহার করে এই অর্থ বাণিজ্য দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চরমভাবে অপমান করেছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, টাকা উদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ