
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: ভাষা শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, আলোচনা সভা এবং বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় ভাষা আন্দোলনের বীরদের।
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
এরপর জেলা পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং সর্বস্তরের মানুষ একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শহীদ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনই ছিল আমাদের স্বাধীনতার বীজ। আজ আমরা যে ভাষায় কথা বলছি, তার পেছনে রয়েছে শত শহীদের রক্ত। সেই চেতনাকে ধারণ করে আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তিনি আইন-শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ:
শারমিন আক্তার, উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার, চুয়াডাঙ্গা।
নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)।
ডাঃ হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, সিভিল সার্জন, চুয়াডাঙ্গা।
ড. মুন্সী আবু সাইফ, বাংলা বিভাগ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ (যিনি ভাষা আন্দোলনের তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক দিক নিয়ে আলোকপাত করেন)।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন, রচনা ও দেশাত্মবোধক গান প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংবাদকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।