
স্পোর্টস ডেস্ক: দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো খেলোয়াড় মুখ খুললে তাকে থামানোর চেষ্টা চলে। শ্যুটিংয়েও তার ব্যত্যয় হয়নি। দেশের অন্যতম সেরা এই নারী শ্যুটার, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) বৃত্তি পাওয়া কামরুন নাহার কলিকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন। এতে ফিরে আসে পুরোনো সংস্কৃতি।
ফেডারেশনের ব্যাখ্যা, ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ ভেঙেছেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে, কোন আচরণবিধি ভেঙেছেন কলি? অনিয়মের প্রতিবাদ করা কি শৃঙ্খলাভঙ্গ? যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা কি খেলোয়াড়সুলভ আচরণের পরিপন্থি?
কামরুন নাহার কলি শ্যুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ, পরবর্তীতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়। অর্থাৎ অভিযোগ যে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ছিল না, তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও মিলেছে। তবুও বিস্ময়করভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বাদ পড়লেও শাস্তির খড়্গ নেমে আসে অভিযোগকারীর ওপর। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে– এটি কি সত্যিই শৃঙ্খলা রক্ষার সিদ্ধান্ত, নাকি মুখ খোলার খেসারত?
এক মাস আগে কলিকে সাময়িক বহিষ্কার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ফেডারেশন। কলি লিখিতভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু সেই ব্যাখ্যা কেন গ্রহণযোগ্য হয়নি, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বিজ্ঞপ্তিতে নেই। নেই কোনো স্বাধীন তদন্ত, শুনানি কিংবা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার উল্লেখ।
এই নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের শ্যুটিংয়ের ভবিষ্যৎ। কলি শুধু জাতীয় দলের শ্যুটার নন, তিনি আইওসি স্কলারশিপ পাওয়া একজন আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট। অথচ, তাকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার আগে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) বা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিওএ।
বিওএ’র মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান বলেন, ‘কলির বিষয়ে ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। এমন সিদ্ধান্ত অনভিপ্রেত। সামনে কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমস। এই সময়ে এমন ঘটনা দুঃখজনক।’