• আজ- বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
জেলার ৪টি আসনে প্রার্থী ২০, কেন্দ্র ৬০৯, ঝুঁকিপূর্ণ ১৭৯, ভোটার ১৮,৩২,৫৮৯, নিরাপত্তায় ১৪ বিচারকসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেবহাটায় দলীয় অফিসে পুলিশের গোপন মিটিং: এএসআই প্রত্যাহার! ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কালিগঞ্জে উৎসবের আমেজ, হাটবাজারে মানুষের ঢল দৈনিক অপরাধ বার্তাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ: অবশেষে একজনের কার্ড বাতিল করলো সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন সাতক্ষীরায় নির্বাচনী আইন ভাঙলেই স্পটে ৭ বছর কারাদন্ড সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র, ককটেল ও মাদকসহ আটক-১ নির্বাচনী সরঞ্জাম যাচ্ছে সাতক্ষীরার কেন্দ্রেগুলোতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিএনপি এগিয়ে ৫০ লাখ টাকাসহ বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির আটক পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েও গেজেটে নেই ছেলের নাম, কৃষকের কান্না থামছে না…

সাতক্ষীরায় নির্বাচনী আইন ভাঙলেই স্পটে ৭ বছর কারাদন্ড

রিপোর্টার: / ৩১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরাতেও ১০ জন প্রথম শ্রেণীর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪ জন বিচারক নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী অনিয়ম প্রতিরোধ, অভিযোগ অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) পরিচালনা ও ঘটনাস্থলেই কারাদ- প্রদানের লক্ষ্যে তারা ইতোমধ্যে মাঠে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

নির্বাচনী আইন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব বিচারিক কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোট কেনাবেচা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ও অবৈধ প্রচারণার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ভোটারকে টাকা বা অন্য সুবিধা দিয়ে প্রভাবিত করা, ভয় দেখিয়ে ভোটের স্বাধীনতা নষ্ট করা, অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়া, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা নষ্ট করা, সরকারি কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক আচরণ, সাম্প্রদায়িক উসকানি বা মিথ্যা তথ্য প্রচার, ব্যালট জালিয়াতি, নির্বাচনী নথি নষ্ট, অবৈধভাবে নির্বাচনী সামগ্রী দখল, ভোট গণনায় হস্তক্ষেপ কিংবা ফলাফল প্রভাবিত করার মতো অপরাধ নজরে এলেই তারা ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদ- প্রদান করবেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ১০ জন প্রথম শ্রেণীর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট জেলার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। সাতক্ষীরা-১ আসনের কলারোয়া উপজেলায় অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডল এবং তালা উপজেলায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা মন্ডল তনি দায়িত্বে রয়েছেন। সাতক্ষীরা-২ আসনের সাতক্ষীরা পৌরসভা ও বাঁশদহা, কুশখালী, বৈকারী, ঘোনা, শিবপুর ও আলিপুর ইউনিয়নে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অর্পিতা আক্তার ও মো. মেহেদী হাসান এবং দেবহাটায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজনীন সুলতানা দায়িত্ব পালন করছেন।

সাতক্ষীরা-৩ আসনের আশাশুনিতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম এবং কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল, ভাড়াশিমলা, তারালি ও নলতা ইউনিয়নে ঝিনাইদহ জেলা জজ আদালতের সিভিল জজ আবীর ঘোষ ও সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এবং সিভিল জজ লিটন দাশ দায়িত্বে রয়েছেন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের ভূরুলিয়া, কাশিমারী, শ্যামনগর, নূরনগর, কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালের বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ) মো. মেহেদী হাসান এবং শ্যামনগরের অন্যান্য ইউনিয়নে সিভিল জজ হাসানুল বান্না দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া চার সদস্যের একটি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা-১ আসনের তালা ও কলারোয়ার জন্য যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নয়ন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা-২ আসনের সদর ও দেবহাটার জন্য যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. এনামুল হক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের আশাশুনি ও কালিগঞ্জের জন্য ফরিদপুরের ভাঙ্গা চৌকি আদালতের সিনিয়র সিভিল জজ শফিকুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের শ্যামনগরের জন্য সিভিল জজ রোকেয়া বিনতে খালেক কমিটিতে রয়েছেন।

এই কমিটি নির্বাচনপূর্ব কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে তা অনুসন্ধান করে তিন দিনের মধ্যে জেলা নির্বাচন অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠাবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনী অপরাধ নজরে এলে অভিযোগ ছাড়াই সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার করে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদ- ও জরিমানা আরোপ করতে পারবে।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারকরা ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন, আচরণবিধি বাস্তবায়ন, অবৈধ পোস্টার-ব্যানার অপসারণ এবং নির্বাচনী ব্যয়ের নিয়ম মানা নিশ্চিত করছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সহিংসতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও উস্কানিমূলক কর্মকা- প্রতিরোধে কাজ করছেন। ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী সুরক্ষা, ভোট গ্রহণ ও গণনা চলাকালে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলও করছেন তারা।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারকদের কঠোর তদারকির ফলে নির্বাচনী পরিবেশ সুশৃঙ্খল থাকবে এবং যেকোনো অপরাধ দ্রুত দমন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের এ কার্যক্রম আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ