• আজ- মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
আশাশুনিতে ভাষা শহীদ আনোয়ারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন সাতক্ষীরার উন্নয়নে সংরক্ষিত নারী আসনে নুরজাহান পারভীন ঝর্ণার মনোনয়ন দাবি সাতক্ষীরার আলমগীর দেখা করলেন তারেক রহমানের সঙ্গে: তার অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার আশ্বাস ব্রহ্মরাজপুর–ধুলিহর সমাজ কল্যাণ পরিষদের এতিমদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শ্যামনগরে জামায়াত কর্মীর তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করল দুর্বৃত্তরা চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানে জরিমানা কালিগঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী-পরবর্তী আলোচনা সভা আশাশুনিতে চোলাই মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জাম সহ গ্রেফতার-২ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে আটজনসহ চার জেলায় আহত ১৩ দশমিনায় ১৮ মাস পর আওয়ামী লীগ কার্যালয় পুনরায় চালু

অভিযোগ ক্রীড়াঙ্গনে: আসিফ মাহমুদের সময়ে একাধিক ফেডারেশনে অনিয়ম, বেড়েছিল অযোগ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি

রিপোর্টার: / ২২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন মানেই উল্লাস আর বিজয়ের গল্প। গোলের আনন্দ, রেকর্ড ভাঙার উত্তেজনা কিংবা আন্তর্জাতিক সাফল্যের গর্ব-এসবই আমাদের আলোচনার কেন্দ্র হয়ে থাকে। কিন্তু কখনো কখনো মাঠের বাইরের নীরব অন্দরমহলই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় নাট্যমঞ্চ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের ভেতরে যে আলোচনা, অভিযোগ এবং অদৃশ্য ক্ষমতার টানাপোড়েন সামনে এসেছে, তা শুধু সংগঠনগত দ্বন্দ্ব নয় বরং ক্রীড়া প্রশাসনের গভীর কাঠামোগত বাস্তবতার এক উন্মোচন।

এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম। ক্রীড়া প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে নানা মহলে অভিযোগ, তার সময়কালে একাধিক ফেডারেশনে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের আধিক্য বেড়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি, তবু ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় অভিযোগটি যেন স্থায়ী হয়ে গেছে। ক্রীড়া প্রশাসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত কমিটি গঠনের অদৃশ্য নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, সজীবের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত স্টাফ মাহফুজ আলম এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন ফেডারেশনে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।

কখনো রাজনৈতিক প্রভাব, কখনো আর্থিক লেনদেন, আবার কখনো ব্যক্তিগত যোগাযোগের বলয়-এই সব কিছুর সমন্বয়ে অনেক সিদ্ধান্ত দ্রুত অনুমোদন পেত। ফলে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চেয়ে প্রভাবের শক্তিই বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছিল, এমন অভিযোগ ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসনে ‘কমিটি রাজনীতি’ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় বিষয়টি আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি প্রবণতা বলেই মনে করছেন অনেকে।

অভিযোগ আছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম এবং বর্তমান পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসানের নামে। প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া কোনো ফেডারেশনের কমিটির পরিবর্তন হয় না। ফলে তাদের সমর্থন ছাড়া কমিটি পুনর্গঠন বাস্তবে সম্ভব ছিল না। ক্রীড়া মহলের আলোচনায় প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

ফেডারেশনগুলোর ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে অনেক কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক ধরনের অস্বস্তিকর চিত্র। ক্রীড়া প্রশাসনে সীমিত অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা গেছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না, এমন অভিযোগ রয়েছে। খেলোয়াড় ও কোচদের মতামত গুরুত্ব পায়নি। ফলে ধীরে ধীরে কিছু ফেডারেশন খেলাধুলার উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশাসনিক ক্ষমতার বলয়ে পরিণত হয়েছে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

নির্বাচনের পর এখন আলোচনায় এসেছে পরিবর্তনের আভাস। কিছু ফেডারেশনে পদত্যাগ, পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। কারণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, কারও মতে প্রশাসনিক চাপ, কারও মতে রাজনৈতিক বাস্তবতার রূপান্তর, আবার অনেকে বলছেন, এটি দীর্ঘদিন জমে থাকা অসংগতির স্বাভাবিক পরিণতি।

একটি বিষয় স্পষ্ট, বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসন এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মাঠের সাফল্য যেমন দর্শকদের উল্লাস এনে দেয়, তেমনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনে স্থায়ী উন্নয়ন। প্রশ্ন এখন শুধু একটি-এই পরিবর্তনের স্রোত কি সাময়িক ঢেউ, নাকি সত্যিই নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ