• আজ- বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
কালিগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামী আটক সিএনএনের বিশ্লেষণ: একে একে মিত্রদের ধ্বংস হতে দেখেও নীরব কেন চীন সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুরে মুরগির খামারে অগ্নিকাণ্ড: ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগে বাধ্য করতে চাপসৃষ্টির অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কালিগঞ্জে প্রস্তুতি সভা কালিগঞ্জে প্রকল্পের টাকা ইউএনও ও প্রকৌশলী জাকিরের পকেটে? আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়কে পিকআপ ও পাওয়ার টিলারের সংঘর্ষে আহত-২ শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলার প্রতিবাদে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভা সাংবাদিকদের উপর হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন অপহরণের অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার

কালিগঞ্জে প্রকল্পের টাকা ইউএনও ও প্রকৌশলী জাকিরের পকেটে?

রিপোর্টার: / ৩১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: জনগণের টাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের দুর্নীতি ঢাকতে বা জবাবদিহি এড়াতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। যা স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পরিপন্থী।

তথ্য অধিকার আইনে সাংবাদিকরা আবেদন করেও সাড়া মেলেনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের। অথচ বর্তমান সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাম্প্রতিক এক মতবিনিময় সভায় বলেন সংবিধানের ১৩৩ টি বিল আছে প্রত্যেকটি অধ্যাদেশই আমরা বাস্তবায়ন করবো। কোন সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতি করলে তার শুধু চাকুরী যাবে না বরং তার বিরুদ্ধে মামলাও হবে।

এমন সতর্ক বার্তার পরও অনিয়ম ,দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মণ্ডল ও প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ এবং বর্তমান প্রকৌশলী জাকিরের বিরুদ্ধে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন জুড়ে এডিপি,র (বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের) আওতায় কাগজ কলমে ১০৬ টি প্রকল্প দেখানো হলেও গণনায় দেখা যায় ১০১ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ৭১ টি প্রকল্প ছিল দরপত্রের মাধ্যমে, বাকী গুলো পিআইসি গঠনে করে ২৮ টি প্রকল্প ছাড়াও ২ টি প্রকল্প নেওয়া হয় আর এফ কিউ(RFQ) বা রিকুয়েস্ট ফর কোটেশনের মাধ্যমে। এছাড়াও উন্নয়ন তহবিল হতে মোট ৬৬ টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় ।এর মধ্যে দরপত্রের মাধ্যমে ৪৬ টি এবং পি আই সি গঠন করে বাকি ২০ টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়ার আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি তৎ সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডল এবং সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ দু,জনে মিলে ভাগ বাটোয়ার সহ নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে দায়সারা কাজ দেখিয়ে অধিকাংশ প্রকল্পের সমুদয় টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ১৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ১ শত ৭৯ টাকা। এর মধ্যে এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের) ২ কোটি ১৮ লক্ষ ৭ হাজার ১ শত ৭৯ টাকা এবং উন্নয়ন তহবিলের ৯৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। কালিগঞ্জ উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং উন্নয়ন তহবিলের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে লক্ষ, লক্ষ টাকা কমিশন বাণিজ্যের নামে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বেশিরভাগ প্রকল্পে কাজই হয়নি। অনেক প্রকল্পের কাজ হয়েছে সামান্য দায় সারা, আর কয়েকটি খুঁজেই পাওয়া যায়নি। কিন্তু সব কটি প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়া অভিযোগ রয়েছে।

গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ৫০ টির বেশি প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ প্রকল্পে দায়সারা ভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এরমধ্যে অধিকাংশ পুকুরের পানিতে দুর্নীতি ঢাকতে প্লাসাইডিং এর মত প্রকল্প নিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। অনেক প্রকল্পে কাজই হয়নি অথচ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। কাগজ কলমে সব কটি প্রকল্পে বাস্তবায়িত দেখানো হয়েছে। এডিপি,র আওতায় বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নীলকন্ঠপুর লাইলী মেম্বারের বাসা হতে এম,এম পুর আজিজ ঢালীর বাসা অভিমুখে প্যালাসাইডিং করনের ১০ লক্ষ টাকার প্রকল্প (আর এফ কিউ) দেখানো হলেও একজন প্রভাবশালী ঠিকাদারের নাম ব্যবহার করে সেখানে লক্ষাধিক টাকার কাজ করে বাকি টাকার প্রকল্প সমাপ্তি দেখিয়ে সমুদয় বিল তুলে নিয়ে তৎকালীন প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বদলি হয়ে চলে যায়। এ ছাড়াও তৎকালীন ইউএনও অনুজা মন্ডলের যোগসাজশে একইভাবে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ইউএনও কোয়াটার পার্কিং টাইলস করনের নামে ৬ লক্ষ টাকার প্রকল্পে নিজের পছন্দের একজন ঠিকাদারের নাম ব্যবহার করে দায় সারা ভাবে কাজ করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ পিআইসির মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল ও উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম তদারকির প্রকল্প দেখিয়ে আরো প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়াও তার বাসার সংস্কার এবং রঙ চং করানোর বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার কাজ চলমান আছে । চাম্পাফুল ইউনিয়নের মশর কাটি বাবলুর বাড়ি হতে এলাহীর জমি অভিমুখে রাস্তা ইটের সোলিংকরণ টেন্ডারের মাধ্যমে ৬৫ হাজার টাকার প্রকল্পে শাহাজান মাস্টার নামে একজন ঠিকাদার কাজ না করে বিল উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।

তাছাড়াও একই গ্রামে উন্নয়ন তহবিলের আওতায় মশারকাটি বাক্কারের পুকুর ধার থেকে আমিনুরের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা ইটের সোলিং করনের কোন অস্তিত্ব খুঁজে না পেলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার গ্রাম পশ্চিমপাড়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ সংলগ্ন পুকুরঘাট হতে আফতাব উদ্দীনের বাড়ি অভিমুখে পাড় প্যালাসাইডিং করন দায় সারাভাবে নামমাত্র ৭০ হাজার টাকার প্রকল্পে ২০ হাজার টাকায় শেষে ভেঙে যাওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী জাকিরকে জানালেও তিনি তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের পার্সেন্ট নিয়ে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে সমুদয় বিল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কোন প্রকল্পের বা কোন গ্রুপে কোন ঠিকাদার কাজ করছে সে বিষয়েও তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন। পূর্বে কাজ করা হয়েছে এমন একাধিক প্রকল্পের নাম দেখিয়ে কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে।

পার্সেন্টেজ না পেলে তিনি কোন বিলের স্বাক্ষর না করার খ্যাতিতে তাকে মিস্টার পার্সেন্টিজ হিসাবে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সুখ্যাতি লাভ করেছে। বিগত ফ্যাসিবাদ আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী জাকির হোসেন ২০২৩ সালে তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর সঙ্গে ভাগা ভাগিতে বনিবানা ও বিরোধ কে কেন্দ্র করে তাকে শ্যামনগর উপজেলায় বদলি করা হয়।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ছাত্রলীগ ক্যাডার পরিচয়ে কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন হিসেবে বদলি হয়ে এসে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলে।

বিগত ৫ আগস্টের পর হতে প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ রাতারাতি জামায়াত-বিএনপি বনে তৎকালীন সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডলের সঙ্গে মিলেমিশে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা নয়, ছয় করার অভিযোগ উঠে।

কথায় আছে না অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন প্রকৌশলী কাজি ফয়সাল বারী পূর্ণ বদলি হয়ে গেলে সুযোগ সন্ধানী প্রকৌশলী জাকির আবারও কালীগঞ্জে যোগদান করে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসটি পার্সেন্টেজ, দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে।

শ্যামনগরে থাকতে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে আজও পর্যন্ত মিস্টার পার্সেন্টেজ খ্যাত জাকির হোসেন বিভিন্ন অভিযোগে দুদুকের তদন্তাধীন আছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনের আগে সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারকে ফাঁদে ফেলে বোকা বানিয়ে কালিগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর, তারালি, এবং দুধলি’র পুরাতন ৩ টি ব্রিজের ৪০ টন রড বিক্রি করে ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ধরা পড়ে।

ওই সময় নিজের অপকর্ম ঢাকতে থানায় একটি জিডি করে দায় উদ্ধারের পায়তারার লিপ্ত আছে। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পে ঢালাও ভাবে লুটপাট হয়েছে। কিন্তু বিগত জুলাই আন্দোলনে ৫ আগস্টের পরে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি বরং আরো হরি লুট, নয়, ছয়ের পরিমাণ বেড়ে গেছে।

এ যেন হারি জিতি নাহি লাজ, মিলিমিশে করি কাজ এই মূলমন্ত্র ধারনে চলছে অনিয়ম, লুটপাট দুর্নীতি। কোন কাজ না করলেও পুরা বিল উত্তোলনের ঘটনায় এখন তোলপাড়। উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন মনে করেছিল পট-পরিবর্তন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলি, আসা-যাওয়ার মধ্যে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার মোক্ষম হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হয়েছে। নতুন নির্বাচিত সরকার এসেছে এসব বিষয়ে পার পেয়ে যাবো। উন্নয়নের নামে বরাদ্দকৃত টাকা নয় ,ছয় উন্নয়ন বঞ্চিত দরিদ্র ,পীড়িত জনপদের মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান কিছু কাজ অসমাপ্ত রয়েছে বিল উত্তোলিত হলেও জমা আছে।

কোথায় আছে এমন প্রশ্নে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে সাংবাদিকের পরিচয় পত্র দেখতে চান। তবে এক সপ্তাহ ধরে উত্তোলিত টাকা কোথায় তার কোন হদিস মেলেনি বরং তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যেয়ে জানতে বলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার কে তার অফিসে না পেয়ে অফিস সুপারভাইজার মাসুমের নিকট জানতে চাইলে বলেন, স্যার ১১ টায় অফিসে আসবেন। বেলা ২ টা পর্যন্ত অফিসে না আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এভাবে ৩/৪ দিন তার অফিসে ঘুরেও দেখা মেলেনি। বিভিন্ন প্রকল্পের বিল প্রস্তুতকারী দুর্নীতিবাজ অফিস সুপারভাইজার মাসুদ হোসেন জানান স্যার সন্তান সম্ভাবা হওয়ায় বাসায় থাকেন। বিশেষ, প্রয়োজন, সভা ছাড়া অফিসে আসেন না বাসায় বসে অফিস কার্যক্রম দেখেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ