
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৩ আসনে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ছ্নকা গ্রামের শেখ রহমত আলীর পুত্র সচেতন নাগরিক মোস্তাহিদ রহমান শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোটারদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে। অভিযোগকারী ছাড়াও কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব ডাঃ শফিকুল ইসলাম বাবু, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সহ একাধিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ প্রার্থীরা বলেছেন সাতক্ষীরা-৩ আসনে উপজেলায় নিয়োজিত প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসার অধিকাংশই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের নেতা,কর্মী, সমর্থক।
লিখিত অভিযোগে মোস্তাহিদ রহমান বলেন এই ধরনের দলীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দিয়ে কোনভাবেই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
আরো বলেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার সহ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা, কর্মচারীর রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা মৌখিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন। ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোন সুরাহা হয়নি। ভোটাররা জানান এ সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা না এলে ভোটারদের আস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কালিগঞ্জ উপজেলার প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের জন্য প্রণীত তালিকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের পদ, পদবীধারীরা হলো ভাড়াশিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাহনুজ্জামান ,হযরত আলী ,মৌতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনারুল ইসলাম ,জাহাঙ্গীর আলম, মনিরুজ্জামান, আজমিরা সুলতানা ,রুস্তম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইউনুস আলী, আব্দুর রউফ, পিডিকে গার্লস স্কুলের আব্দুস সবুর, নলতা বালিকা বিদ্যালয়ের খলিলুর রহমান, আব্দুর রহিম আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের খলিলুর রহমান ,আব্দুর রহিম, আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের আরিফ বিল্লাহ, নেঙী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মনিরুল ইসলাম আবু সাঈদ, ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় শেখ আবদুল্লাহ ,আফরোজা আক্তার, তারালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হাসান শাহারিয়ার মনিরুল ইসলাম মোঃ আরাফাত হোসেন দক্ষিণ শ্রীপুর কুশুলিয়া কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের আসাদুজ্জামান আইয়ুব আলী, রবিউল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মুরশিদা খাতুন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ,আলমগীর হোসেন, নাজমুল হুদা ,ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোঃ জামাত আলী, ফেরদাউস মাহবুবুর ,আলমগীর হোসেন, মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আছিয়া খাতুন ,আবু সাদ, উকশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেলিম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম এবং নুরে হাওয়া।
এছাড়াও নাম না জানা বহু শিক্ষকের নাম এই দলীয়করণে রাজনৈতিক বিতর্কিতরা তালিকায় আছে। এভাবে দলীয়করণ হলেও সরকারি চাকরিজীবী ছাড়াও নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদেরকে বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞ শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি মিটিং করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।