• আজ- শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সোয়াল বস্তুনিষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের কারনেই দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম সময় টিভি- সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা সাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা স্বামীর কাছ থেকে গৃহবধূকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণ, যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রতিচ্ছবি চিন্ময়ের মুক্তির বিষয়ে যা বললেন সংস্কৃতিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রশ্নে যা বললেন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ অলআউট, ২৬ রানে জিতল নিউজিল্যান্ড ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তি আলোচনায় বসানোর নেপথ্যে কে, জানা গেল হরমুজ প্রণালি খোলার লক্ষ্যে প্যারিস সম্মেলনে পৌঁছালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ‘১০টি যুদ্ধ বন্ধ করার’ দাবি, যাচাই করে যা পেল বিবিসি

কৌশলী পথে জামায়াত, আন্দোলনের আড়ালে নির্বাচনী প্রস্তুতি

রিপোর্টার: / ১০৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

অনলাইন রিপোর্ট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাঁচ দফা দাবির পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি দলটি তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করছে। এই দ্বৈত কৌশলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জামায়াতের কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছেন।

পাঁচ দফা দাবি ও নির্বাচনী তৎপরতা
জামায়াতের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি। দলটি এই দাবিতে অনড় থাকলেও রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় পিআর ভিত্তিক নির্বাচন বা সংসদের দুই কক্ষে রূপান্তর সম্ভব নয়। তবুও জামায়াত এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

দলটি একদিকে গণসংযোগ, জনসভা ও বিক্ষোভের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রার্থী
জামায়াতের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দলটি পুরোপুরি নির্বাচনমুখী। বর্তমানে প্রায় ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি চিকিৎসা শেষে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। রাজধানীর মগবাজারে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। যারা আমাদের ভালোবাসেন, পছন্দ করেন এবং যাদের আমরা পছন্দ করি, তাদের সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।” তিনি সমর্থকদের আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনে বিজয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামার কথা বলেন।

আন্দোলন ও নির্বাচন: দ্বৈত কৌশল
জামায়াতের দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে দলটি একদিকে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে নিজেদের শক্তিশালী করছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিসহ পাঁচ দফা কোনো একক দলের দাবি নয়, এটা জনগণের দাবি। এসব দাবির বিষয়ে আলোচনা যেমন চলছে, আন্দোলনও চলবে। নির্বাচনী কার্যক্রম দলের নিজস্ব বিষয়, এটা অব্যাহত থাকবে।”

সংঘাত বা সহিংসতার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। সংঘাতের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবুও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দায়িত্বশীলরা সতর্ক রয়েছেন।”

জামায়াতের দাবি ও অন্য দলের অবস্থান
জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “জামায়াত নির্বাচনমুখী দল। সরকার ঘোষিত যেকোনো সময়ের নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত।” তিনি দাবি আদায়ের চেষ্টার পাশাপাশি নির্বাচন বর্জনের পক্ষে না থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, “নির্বাচন ঠেকানোর ফলে দেশে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, যা কাম্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর মানুষ এখন নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন চায়।”

জামায়াতের মতো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য সমমনা দলও পিআর ভিত্তিক নির্বাচন ও পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। এসব দল একদিকে জামায়াতের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ দাবি না মানলে নির্বাচন বন্ধের হুমকি দিলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি মূলত চাপ তৈরির কৌশল। কারণ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া এই দলগুলোর জন্য রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা কঠিন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক সূত্র মতে, জামায়াতের এই কৌশলের মাধ্যমে দলটি একদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ভিন্ন অবস্থানকে কাজে লাগাচ্ছে, অন্যদিকে নিজস্ব রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। পিআর নিয়ে ঐকমত্য না থাকলেও এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলন জিইয়ে রেখে জামায়াত নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই দ্বৈত কৌশল রাজনৈতিক মাঠে তাদের প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ