
অনলাইন ডেস্ক: প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের স্থায়ী দলীয় কার্যালয় পুনরায় চালু হয়েছে।
বিষয়টি কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ হাওলাদার এবং দশমিনা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহাগ প্যাদার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কার্যালয়টি উদ্বোধন করা হয়।

পরে নেতাকর্মীরা কার্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেন। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর দলীয় কার্যালয় চালু হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খোলা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পারছি। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে কী বার্তা দিচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, দলীয় কার্যালয় পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলে জনমনে বিদ্যমান প্রশ্ন ও সংশয় দূর হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা প্রতিনিধি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেখছি, বিএনপির ক্ষমতা আসার পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে। তারা কি সত্যিই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন দিচ্ছে, তা আমার বোধগম্যের মধ্যে পড়ছে না। তবে থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো অবগত আছেন কিনা আমার জানা নেই। যদি পুলিশ এ বিষয়টি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, আমরা প্রয়োজনে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
দীর্ঘদিন পর দলীয় কার্যালয় পুনরায় চালু হওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্য পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার করতে সহায়ক হবে।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজকে মুঠো ফোনে ফোন দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।