• আজ- মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
আশাশুনিতে ভাষা শহীদ আনোয়ারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন সাতক্ষীরার উন্নয়নে সংরক্ষিত নারী আসনে নুরজাহান পারভীন ঝর্ণার মনোনয়ন দাবি সাতক্ষীরার আলমগীর দেখা করলেন তারেক রহমানের সঙ্গে: তার অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার আশ্বাস ব্রহ্মরাজপুর–ধুলিহর সমাজ কল্যাণ পরিষদের এতিমদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শ্যামনগরে জামায়াত কর্মীর তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করল দুর্বৃত্তরা চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানে জরিমানা কালিগঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী-পরবর্তী আলোচনা সভা আশাশুনিতে চোলাই মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জাম সহ গ্রেফতার-২ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে আটজনসহ চার জেলায় আহত ১৩ দশমিনায় ১৮ মাস পর আওয়ামী লীগ কার্যালয় পুনরায় চালু

নাভালনিকে ‘হত্যা’য় ব্যবহৃত ‘ডার্ট ফ্রগ’ বিষ কী?

রিপোর্টার: / ১৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সি নাভালনিকে হত্যা করতে দক্ষিণ আমেরিকার বিষাক্ত ‘ডার্ট ফ্রগ’ বা তীরের ফলার মতো বিষাক্ত ব্যাঙের বিষ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইউরোপের পাঁচটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি করেছে। তবে মস্কো এই অভিযোগকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, নাভালনির শরীরের নমুনায় ‘এপিবেটিডিন’-এর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্টে পাওয়া এক ধরনের ছোট ও উজ্জ্বল রঙের বিষাক্ত ব্যাঙের শরীর থেকে নিঃসৃত নিউরোটক্সিন। প্রাকৃতিকভাবে রাশিয়ায় এই বিষ পাওয়া যায় না।

ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা সন্দেহ করছেন, নাভালনির ক্ষেত্রে এই বিষটি ল্যাবে তৈরি করা হয়েছিল। এটি স্নায়ু গ্যাসের  মতো কাজ করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে।

২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে মৃত্যু হয় ৪৭ বছর বয়সি নাভালনির। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, হাঁটার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্বাভাবিক কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর দাবি, নাভালনির শরীরে পাওয়া বিষ এবং তার উপসর্গগুলো বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে হত্যার উচ্চ সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত দেয়।

রাশিয়া বরাবরের মতোই এই মৃত্যুতে তাদের কোনও দায় থাকার কথা অস্বীকার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রুশ সরকার এই অভিযোগকে ‘পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। লন্ডনে রুশ দূতাবাস উপহাস করে বলেছে, ‘একজন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা উচিত, কে এই ব্যাঙ নিয়ে আষাঢ়ে গল্প বিশ্বাস করবে?’

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফল ও পদার্থের ফর্মুলা প্রকাশ না করা পর্যন্ত তারা কোনও মন্তব্য করবেন না। তিনি নাভালনিকে একজন ‘ব্লগার’ এবং রাশিয়ায় ‘সন্ত্রাসী ও চরমপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেন।

নাভালনি ছিলেন রাশিয়ার প্রধান বিরোধী নেতা। ২০০৮ সাল থেকে ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্যাজপ্রম ও রোসনেফটের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি আলোচনায় আসেন। ২০১১ সালে তিনি ‘ফাউন্ডেশন ফর ফাইটিং করাপশন’ প্রতিষ্ঠা করেন।

এর আগেও ২০২০ সালে তিনি একবার বিষপ্রয়োগের শিকার হয়েছিলেন। সে সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানিতে নেওয়া হয়েছিল। সুস্থ হয়ে ২০২১ সালে দেশে ফিরলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিন বছর তিনি কারাগারেই ছিলেন।

নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমার স্বামীকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে, এখন তার প্রমাণ মিলেছে। সত্য উন্মোচনের জন্য আমি ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ