• আজ- রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ সাতক্ষীরায়, গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া

রিপোর্টার: / ৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলামের মরদেহ অবশেষে নিজ জেলা সাতক্ষীরায় পৌঁছেছে। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। শোকের ছায়া নেমে আসে দুই পরিবারসহ পুরো গ্রামজুড়ে।

নিহতদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এবং নাহিদুল ইসলামের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার কাঁদাকাঠি গ্রামে।

জানা গেছে, গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।

স্বজনরা জানান, জীবিকার সন্ধানে ৩ মাস আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন শফিকুল ও নাহিদুল। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে নিরলস পরিশ্রম করলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্মমতায় প্রাণ হারাতে হয়েছে তাদের।

শফিকুলের বড় বোন জাহানারা খাতুন বলেন, আমাদের চার ভাই বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই শফিকুল। আমরা খুব অসহায় হয়ে গেলাম। আমার মা বাবাসহ তার দুই কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার চলতো। সে এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। এখন তারা কিভাবে চলবে। আমাদের তো তিনবোনের বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা তো আমাদের পরিবার নিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছি। আমার মা-বাবা, ভাইয়ের সংসার কিভাবে চলবে এখন ? এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তিনি এসময় সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

শফিকুলের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, ঢাকা বিমান বন্দরে কাগজপত্র জমা দেয়ার পর বড় বড় উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা তাদের স্বান্তনা দিলেন। এসময় তাদের হাতে একটি ৩৫ হাজার ও অপরটি ৫০ হাজার টাকার চেক দিয়েছেন। দাফন কাফন ও সরকারের অনুদান হিসেবে তাদের দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরো ১৩ লাখ টাকা সরকার দেবেন বলেন তিনি এসময় কান্নয় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, আমার কে দেখবে, আমার সন্তানদের কে দেখবে?

প্রাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রানালয়ের আওতাধীন প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার (অধিভুক্ত জেলা- খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট) এর ভারপ্রাপ্ত সরকারী পরিচালক মোঃ খালেদুর রহমান জানান, শফিকুল ও নাহিদের মরদেহ প্রাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রানালয়ের আওতাধীন ওয়েজ ওনার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে দেশে এসেছে। উনাদের পরিবার বিমান বন্দর থেকে ৩৫ হাজার করে দুই পরিবার দুটি চেক পেয়েছেন। এছাড়া বৈধভাবে বিদেশে গমনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা করে এবং জীবন বীমা কর্পোরেশন থেকে আরো ১০ লক্ষ টাকা করে পাবেন পরিবার দুটি। এটা তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে পাবেন। তিনি আরো জানান, সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম।

এদিকে দুই প্রবাসীর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষবারের মতো তাদের একনজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। স্বজনদের কান্না আর শোকে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে দ্রুত সব ধরনের সহায়তা এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ