
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিজ ঘর থেকে নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বিধবা ছিলেন। তার নাম অহিদা সুলতানা শিমু। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশ শহরের পুরাতন সাতক্ষীরার তার নিজ বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
মৃত অহিদা সুলতানা শিমু (৪০) পুরাতন সাতক্ষীরার মিয়ারাজ হোসেনের মেয়ে।
মৃতের বড় বোন রাবেয়া সুলতানা জানান, তারা পাঁচ বোন ও এক ভাই। ২০০৭ সালে শহরের সুলতানপুরের প্রয়াত সাংবাদিক আহসানের সঙ্গে ছোট বোন অহিদা সুলতানা শিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর শিমুর স্বামী আহসান গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে সে তার (রাবেয়া) কাছে নিজের ঘরে থাকতো। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়ে সে তার সংসার খরচ নির্বাহ করতো। দুই মাস আগে সেটি হাসান ইলেকট্রিক এর মালিক হাসানের কাছে বিক্রি করে দেয়।
বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ডাকতে যেয়ে ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। মৃতের দুই কনুই ও পেটের উপরের চামড়া ওঠানো ছিল।
তবে স্থানীয়রা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর শিমু বড় বোনের কাছে খাওয়া দাওয়া করলেও সে অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করতো। নিয়মিত নেশা জাতীয় ইনজেকশন নিত সে। তার কাছে অনেকেই যাতায়াত করতো। গত বছরের আগষ্ট মাসে তার বাবা মারা যায়। একমাত্র ভাই এক সময়কার তুখোড় ক্রিকেট খেলোয়াড় মনিরুজ্জামান কিরণ বোনদের সঙ্গে বোঝাপড়া না হওয়ায় সদর উপজেলার মাধবকটিতে দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছে। বৃহষ্পতিবার লাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ধারণা করে হচ্ছে দুই থেকে তিন দিন আগে শিমুর মৃত্যু হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (৬৪ নং) হয়েছে। ওই নারীর সামাজিক সম্মান ছিল না। লাশের ময়না তদন্তের জন্য শুক্রবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যাবে না।