• আজ- শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

সরকারি ইজারাকৃত আশাশুনির হাড়িয়াখালসহ ৩টি জলমহাল দখলের অভিযোগ

রিপোর্টার: / ১৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারি ইজারাকৃত আশাশুনির হাড়িয়াখাল,সলুয়া ও হাসখালী জলমহাল জোরপূর্বক দখল করে ৭০টি নেটপাটা কেটে মাছধরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার খবর পাওয়া গেছে।

জলমহালের ইজারাদারকে হটিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে মশিউর হুদা তুহিনের নেতৃত্বে নুরে আলম সরোয়ার লিটন, মোকলেছুর রহমান, নুর ইসলাম, হাবিবুল্লাহ হাবিব ও আব্দুল কাদেরসহ ৩৫/৪০ জন সম্পুর্ন বেআইনি ভাবে জোর পূর্বক জলমহালটি দখল করেছেন।

১৬এপ্রিল রাতে জলমহাল দখল করার পর থেকে তারা দফায় দফায় নেট পাটা কেটে মাছধরে বিক্রিসহ সেখানে ভূরিভোজের আয়োজন করা হচ্ছে। দখলকারীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল করায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।ফলে গত ৩দিনে এসব দুর্বৃত্তরা জলমহালে অবস্থান ও ইজারা গ্রহীতার মৎস্য ঘের থেকে বাগদা ও গলদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য লুটপাট করছেন।

সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার কোদন্ডা মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানে হাড়িয়া খাল জলমহালের ৩২৪, ৩২৬, ৩২৮, ৪১৯, ৫৬৫/৬৬৬ ও ৫৬৭ দাগে ১১.৮২ একর জমি সরকারের কাছ থেকে বিল নাটানা মৎস্য জীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সঞ্জয় মন্ডল ১৪৩২-১৪৩৪ সন পর্যন্ত ইজারা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি উক্ত জলমহাল পরিচালনার জন্য আশাশুনি উপজেলার আদালতপুর গ্রামের মৃত করিম শেখের পুত্র মোঃ নজিরউদ্দীন শেখকে কেয়ারটেকার নিয়োগ করেন।

এছাড়া স্থানীয় নীলরতন রায়ের পুত্র কালিপদ রায়ের রেকর্ডীয় প্রায় ৮ বিঘা সম্পত্তি ভাঙনের ফলে উক্ত জলমহালের অভ্যন্তরে চলে গেছে। সেই ৮বিঘা জমির হারির টাকা জমির মালিক কালিপদ রায়কে বাৎসরিক চুক্তিতে প্রদান করছেন নজিরউদ্দীন শেখ। সেখান থেকে নজিরউদ্দীন শেখ উক্ত জলমহালে নেটপাটা স্থাপন, পাহারাগৃহ নির্মাণ করে মৎস্য চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন।

নজিরউদ্দীন শেখ এ প্রতিনিধিকে জানান- আমাদের জলমহাল দখলের পর আমরা আশাশুনী থানায় গিয়ে ওসিকে জানালে তিনি বলেন ওরা রাজনৈতিক লোক, আপনারা রাজনৈতিক ভাবে মিমাংসা করে নেন।এরপর আমরা ইউএনও সাহেবকে জানিয়েছি।তিনি আমাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। তিনি আরও জানান-দখলকারীরা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী লোক হওয়ার প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নজির উদ্দিন শেখসহ স্থানীয়রা আরও জানান, জলমহাল ৩টি সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ১নং খাস খতিয়ানের হওয়ায় বিল নাটানা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি’র ২০-২৫জন সদস্যদের নিয়ে সভাপতি সঞ্জয় মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে ইজারা নিয়ে আসছে এবং বর্তমানে ১৪৩২-৩৪ সন পর্যন্ত ইজারার মেয়াদ আছে। বিল নাটানা মৎস্য জীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা পড়েছে চরম বিপাকে।ইজারার মেয়াদ এখনো বলবৎ থাকা অবস্থায় দখল করে নেওয়ায় যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা রয়েছে।

এব্যাপারে ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ