
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জামাতের আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, যে দলের নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে পারে তাদের ভয় দেখাবেন না। বাংলাদেশে ইনছাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আমার জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।
একটি দলকে উদ্দেশ্যে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দিবেন আবার মা-বোনদের গায়ে হাত দেবেন এটা মেনে নেয়া হবে না। আমাদের কোন কার্ড নেই। আমরা মানুষের ন্যয্যাটা বুঝিয়ে দিতে চাই।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, আমরা যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসতে পারি ইনছাফের বাংলাদেশ গঠন করবো। ইনছাফ হলো সমতা নয়, ইনছাফ ন্যায্যটা বুঝিয়ে দেওয়া। আমরা আসলে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী থাকবে না।
আমরা যুবকদের কোন বেকার ভাতা দেব না, বেকার ভাতা দেয়া মানে তাদের অপমান করা। যুবকরা ভাতা চায় না কাজ চায়। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে শাসন হবে জনগণের শাসন। এজন্য চিৎকার দিয়ে বলছি, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষ মুক্ত হলে আমরাও মুক্ত। ১৮ কোটি মানুষ যদি দালাল হতে বিপজ্জনক পজিশনে যায়, আমরাও বিপজ্জনক পজিশনে পড়ে যাব। তাই ১২ তারিখ প্রথম সিলটি পড়বে হ্যাঁ ভোটে। হ্যাঁ অর্থ আজাদি, না অর্থ গোলামি। আপনারাই বলুন গোলামি না আজাদি।
বিগত সময় যারা দেশ থেকে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন আমরা তাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে বের করে জনগনের কাছে পৌছে দিয়ে চায়। আর এ জন্য সকলকে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।
তিনি সাতক্ষীরার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সারাদেশে ফ্যাস্টিট সরকার গুম খুন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। শুধুমাত্র সাতক্ষীরায় আমাদের নেতাকর্মীদের গুম খুন করার পাশাপাশি বাড়িঘরও ভাংচুর করেছিল। এসব হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হলে সাতক্ষীরার ৪টি আসনেই দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে।
জামায়াত আমীর আরো বলেন, মুসলমানদের মধ্যেও অনেক মতামত আছে। অনেক কিছু মেলে না। তবে সুযোগ পেলে সবাইকে নিয়ে বসে কমন বোর্ড করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই আমি ১২ তারিখ ইনসাফের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর জন্য সাতক্ষীরাবাসীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম পরোয়ার, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, খুলনা সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকসহ অন্যরা নেতৃবৃন্দ।