• আজ- শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
কালিগঞ্জে পানিয়া আনসার ও ভিডিপি ক্লাবের কার্যনির্বাহী নির্বাহী কমিটির সভা দেশে হামের লক্ষণ নিয়ে ৯৪ জনের মৃত্যু, ভর্তি ৫ হাজারের বেশি সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি প্রশাসনিক পদ শূন্য, পাসওয়ার্ড জিম্মি: কম্পিউটার ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ গ্রেফতার-১ কালিগঞ্জের কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত আশাশুনির খাজরা চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ আমির হামজার বিরুদ্ধে আরও এক মামলা, সমন জারি দেশে হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৬৮৫ জন ৪০ হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইসরাইলের ইসরাইলের প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের দাবি ইরানের

সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি প্রশাসনিক পদ শূন্য, পাসওয়ার্ড জিম্মি: কম্পিউটার ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

রিপোর্টার: / ৫১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নজিরবিহীন প্রশাসনিক জটিলতা। ২০২৪ সালের ১২ জুন হতে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এবং ২জন সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এই শূন্যতার সুযোগে গত দেড় বছরে বিদ্যালয়টিতে একের পর এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের রদবদল, অনিয়ম, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, ডিজিটাল পাসওয়ার্ড কুক্ষিগত করে রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল দক্ষ জনবল ছাঁটাই এর অভিযোগে ক্ষুব্ধ শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। যা বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও চেইন অফ কমান্ডে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে অভিযোগের আঙ্গুল সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীন ও তার সহযোগীদের দিকে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র শিক্ষক মো. কবির হোসেন আকন। সরকারি বিধি মোতাবেক দায়িত্ব হস্তান্তর হলেও বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সিসি ক্যামেরার যাবতীয় পাসওয়ার্ড এখনো সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীনের মোবাইলের সংরক্ষিত। ফলে দাপ্তরিক কোন প্রয়োজনে ওটিপি এলে বর্তমান প্রধান শিক্ষককে আলাউদ্দীনের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, তথ্য ও প্রযুক্তির এই নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান প্রশাসনকে জিম্মি করে রেখেছেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আনিসুর রহমান শিক্ষক পরিষদের রেজুলেশন অনুযায়ী মো. আসাদুজ্জামান নামে একজন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞকে ল্যাব এসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ আনিসুর রহমানের অবসরের পর দায়িত্ব পেয়েই মো. আলাউদ্দীন কোন কারণ ছাড়াই আসাদুজ্জামানকে অব্যাহতি দেন।

অভিযোগ রয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল নিজের ঘনিষ্ঠ ও সাবেক খন্ডকালীন কর্মী সাগর হোসেনকে ওই পদে বসাতেই এই ছাঁটাই কার্যক্রম করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাগর হোসেন ইতিপূর্বে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক এম এল এস এস হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ২০২৪ সালে চাকরি ছেড়ে বিদেশ চলে গেলেও ২০২৬ সালের ফিরে এসে পুনরায় ওই পদে যোগদানের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্যেষ্ঠতার দিক দিয়ে মো. কবির হোসেন আকন ৩ দিনের জ্যোষ্ঠ হওয়া সত্বেও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীন দীর্ঘ সময় দায়িত্ব হস্তান্তরে নানা তালবাহানা করেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কড়া নির্দেশনায় তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বাধ্য হলেও অভিযোগ রয়েছে যে, নেপথ্যে থেকে এখনো তিনি সব কলকাঠি নাড়ছেন।

এদিকে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কবির হোসেন আকন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল পাসওয়ার্ড বুঝে নিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রশাসনের এই দুর্বলতার সুযোগে সাবেক ও বর্তমানের এই অদৃশ্য রশি টানাটানিতে বিদ্যালয়টি এখন ব্যক্তিগত সিন্ডিকেটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসব অনিয়ম ও পাসওয়ার্ড জিম্মি করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না, যার ফলে তিনি কার্যত সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন।

যোগ্যতার অমর্যাদা এবং এই প্রশাসনিক অচল অবস্থার কারণে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেধেছে, যা বিদ্যালয়ের সামগ্রীক শিক্ষার কার্যক্রমকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষী মহলের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

দাবি উঠেছে, ল্যাব এসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ্য ও পূর্বতন কর্মী আসাদুজ্জামানকে পুনর্বহাল এবং ডিজিটাল পাসওয়ার্ড সহ বিদ্যালয়ের সকল নিয়ন্ত্রণ বর্তমান প্রশাসনের অধীনে ফিরিয়ে আনার।

তবে, এব্যাপারে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য লেখা সমূহ