
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ ওঠার পরপরই অসমাপ্ত ও বিতর্কিত প্রকল্পগুলোর কাজ পুনরায় শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বে সমাপ্ত দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে শ্রমিক নামানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সংবাদ প্রকাশের চাপেই হঠাৎ করে এসব প্রকল্পে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
এলাকার সচেতন মহলের ভাষ্য, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। এখন পুনরায় কাজ শুরু হওয়ায় সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তাদের মতে, জনমত ও প্রশাসনিক তদন্তের চাপ সামাল দিতেই লোকদেখানোভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যও। ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,চেয়ারম্যান আমাদের কোনো গুরুত্ব দেন না। পরিষদের সদস্যদের অন্ধকারে রেখে আমাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল জনগণ পায়নি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জাহানারা খাতুন। তিনি বলেন,চেয়ারম্যান একক আধিপত্য কায়েম করে পরিষদের অর্থ লুটপাট করছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন। তবে সমাপ্ত দেখানো প্রকল্পগুলোর কাজ কেন নতুন করে শুরু হয়েছে এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন ও সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উন্নয়নের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে। মথুরেশপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।