
নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের মা মটরস্ এর সত্ত্বাধিকারী জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে স্যোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মিথ্যা অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তিন জন ক্রেতার সাথে মটর সাইকেল বিক্রয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধকে ঘিরে এঘটনার সূত্রপাত শুরু হয়। মকল অভিযোগ মিথ্যা দাবী করেছেন ব্যবসায়ী জিল্লু।
মা মটরস্ এর সত্ত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান জানান, আমি দীর্ঘ ২৫ বৎসর যাবৎ ব্যবসার সাথে জড়িত। ব্যবসার মধ্যে মিনিবাস (যাত্রীবাহী) ও মটর সাইকেল শো-রুম আছে। আমি বাস মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি। বিগত সরকারের সময় বাস মালিক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির কোন দিন কোন পদে ছিলাম না। বিগত সময়ে রেওয়াজ ছিল প্রত্যেক বাস মালিক অর্থাৎ সমিতির সদস্যকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের মালা দিয়ে সম্মানিত করা। তারই অংশ হিসেবে বিগত সরকারের সময় সংগঠনের কার্য্যকালীন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক আমার গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। গত ২০১৩ সালের ৫ জুলাই আমি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ছিলাম। ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাসটার্মিনাল দখল করা হয়। বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার জন্য আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়। ওই সময় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সালমা স্টোর নামে ২টি কনফেকশনারী দোকান ভাংচুর-লুটপাট করা হয়।
এরপর ব্যবসার কলেবর বৃদ্ধির কারণে আমি রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রীয় হয়ে যাই। আমি কোন দিন আওয়ামীলীগের কোন রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম না।
গত ৩ জুন বিকাল ৩ টার দিকে জনৈক এক ব্যক্তিসহ ৩ জন ব্যক্তি মা মটরস্ এর কাটিয়াস্থ মটর সাইকেল শো-রুমে (পুরাতন) আসে। তারা একটি ডিসকভার ১০০ সিসি মটর সাইকেল পছন্দ করে। ৬৮ হাজার টাকা দরদাম ঠিক হয়। পরে টাকা পয়সা লেনদেনের আগেই গাড়ীটির মূল কাগজপত্রের ছবি তোলা এবং ভিডিও করা শুরু করে ওই জনৈক এক ব্যক্তি। শো-রুমের ছবি তোলা ও ভিডিও চিত্র ধারণ করা বন্ধ করতে বল্লে সাঈদ ও তার সঙ্গীয়রা উত্তেজিত হয়ে অফিসের ম্যানেজার আইয়ুব আলীর সাথে বিবাদে জড়ায়। একপর্যায়ে দুইপক্ষের মধ্যে ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু হয়। আমি বিবাদে জড়ানো উভয়পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। আমি জনৈক ওই ব্যক্তিকে তার ফোনে রেকর্ড করা ভিডিও চিত্র ও তোলা ছবি ডিলেট করার অনুরোধ করলে সে সহ তার সঙ্গীয় তিনজন শোরুম থেকে বেরিয়ে যায়। পরেক্ষণে সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর শাহাদৎ সহ ২জন কে নিয়ে জনৈক ওই ব্যক্তি ও তার সঙ্গীয়রা পূনরায় আমার শো রুমে আসে। সাব-ইন্সপেক্টর আসার পর পরই যুবদল নেতা ফরিদ ঘটনাস্থলে আসেন।
এ সময় সাব-ইন্সপেক্টর উভয় পক্ষের বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে যুবদল নেতা সিদ্ধান্ত দেন যে, টাকা পরিশোধ করলেই কেবল গাড়ীর মুল কাগজপত্র সরবরাহ করা হবে। তখন তা বিআরটিএ থেকে যাচাই বাছাই করবে ক্রেতাপক্ষ। এক্ষেত্রে শোরুমে একজন প্রতিনিধি সঙ্গে থাকবেন।
এ ঘটনার পর একটি ফেসবুক আইডি থেকে সাতক্ষীরার মা মটরস্ এ ক্রেতা লাঞ্ছিত ও হুমকি, উদ্ধার করলো পুলিশ শিরোনামে দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্টে আমার ও আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কুরুচিপূর্ণ অভিযোগ করেন।
ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এটা ঠিক নয়, যার সাক্ষী ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর শাহাদাৎ ও যুবদল নেতা জনাব ফরিদ। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেছে মর্মে মিথ্যা প্রচার দিয়ে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার অপপ্রয়াস চালিয়েছে মাত্র। আমার শো-রুমে ক্রেতাকে হয়রানি, হুমকি দেয়া, লাঞ্ছিত করা হয়, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা। সে আরও লিখেছেন গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আমার বিরুদ্ধে চোরাচালান ও মাদক কারবারির খবর বেরিয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা।
ফেসবুক পোস্টে একটি ছবি দিয়ে বলা হয়েছে আমি আওয়ামীলীগের দোসর। আমাকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়ার যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তা অনেক পূর্বের। ওই সময় বাস মালিক সমিতির ২৮৮ জন সদস্যকে নির্বাচিত কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ফুলের মালা পরিয়ে দেন। তাদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। ওই ছবিকে ব্যবহার করে আমাকে আওয়ামীলীগের দোসর বানানো হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
বিগত করোনার সময় অসহায় মানুষকে নিয়তি রান্না করা খিচুড়ীর প্যাকেট বিতরণ করেছিলাম সেই ছবিকে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর খিচুড়ীর প্যাকেট বলে প্রচার করা হয়েছে যা চরম দুঃখজনক।
জনৈক ওই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জিল্লু ভোল পাল্টে এখন বিএনপির রাজনীতির সাথে মিশে তার দাপট দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। জিল্লুর রহমানের পুরাতন মোটরসাইকেল শো’রুমে পছন্দের গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাওয়ায় শোরুমে সার্টার নামিয়ে সাংবাদিকদের আটকে রেখে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এলো এক সাধারণ ক্রেতাকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও ভুয়া কাগজপত্র দেওয়ার চাঞ্চল্যকর চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তালা উপজেলার খানপুর এলাকার ভুক্তভোগী যুবক মোঃ বিল্লাল হোসেনের দায়ের করা একটি বিস্ফোরক লিখিত অভিযোগের কপি ৫ জুন হাতে এসেছে। এই অভিযোগের প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছে মা মটরস সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক দাপট, চরম দুর্ব্যবহার এবং সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চালানো নির্যাতনের চিত্র।
জিল্লুর রহমান অতীতে দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে এবং তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে কাটিয়া ও পলাশপোল এলাকায় একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করেছে। তার শোরুম ‘মা মোটরস’ মূলত সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাই ও কাগজপত্রহীন অবৈধ মোটরসাইকেল কেনাবেচার প্রধান আখড়া। জিল্লু ও তার ডানহাত আইয়ুব আলীর মূল কাজই হলো কম দামে কাগজপত্রহীন গাড়ি কিনে, ভুয়া নম্বর প্লেট ও জাল কাগজ বানিয়ে ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলা। কেউ জালিয়াতি ধরে ফেললে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উল্টো মারধর ও মামলা-হামলার ভয় দেখানো হয়।
গত বুধবার (৩ জুন) পাইকগাছা থেকে আসা দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার পর জিল্লু বাহিনীর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় প্রথম লিখিত অভিযোগ হয়।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ক্ষমতার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও জিল্লুর ও আইয়ুব আলীদের মতো চিহ্নিত অপরাধীরা কীভাবে এখনও বহাল তবিয়্যতে সাধারণ মানুষকে মারধর ও জিম্মি করার সাহস পায়? চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের এই মূল হোতাদের লাগাম টেনে ধরতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ও প্রশাসন কত দ্রুত অ্যাকশনে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।