
নিজস্ব প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় এক নারীকে নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের আকরম আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার রাজানগর শাখায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশ অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, প্রতারণা, যৌতুক দাবি এবং পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর সাবেক স্ত্রী ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। জানা গেছে, শনিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকার বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সাজেদা ফাউন্ডেশনের কর্মী ইশরাত জাহান নামে এক নারীকে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে তাঁকে আটক করা হয়।
এ সময় উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে আসিফ ইকবালের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক বিতর্কিত ঘটনার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি।
তাঁদের ভাষ্য, ২০১৬ সালে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তিনি কারাভোগও করেন। পরে ওই তরুণীকে বিয়ে করার পর পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার হলে তিনি মুক্তি পান।
তবে বিয়ের কিছুদিন পরই ওই স্ত্রীকে তালাক দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর বিভিন্ন সময়ে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন আসিফ।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে বিয়ে করার পরও তিনি অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে না জানিয়ে ২০২১ সালের ২৬ জুলাই ঝিনাইদহের বনানীপাড়া এলাকার ফাতেমা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফাতেমার পরিবারের দাবি, বিয়ের পর কিছুদিন সংসার করার পর আসিফ যৌতুক দাবি করতে শুরু করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে ফাতেমাকে তালাক দেন।
এরপর উম্মে হাবীবা প্রান্তি নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সাবেক স্ত্রীদের কয়েকজন ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, আসিফ ইকবাল ধারাবাহিকভাবে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে বিয়ে করেছেন এবং পরে নানা অজুহাতে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে ছেলের এমন কর্মকান্ডের বিষয়ে আসিফ ইকবালের মাতা বলেন- সে তো আমাদের সাথে থাকেনা। আমরা জানবো কেমন করে। তবে একাধিক বিয়ের বিষয়ে কথা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।